এলডিসি উত্তরণে ৩ বছরের ফুরসত, সাময়িক স্বস্তি

এসএম আলমগীর

অর্থনীতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ

2026-10-31T00:25:31+00:00
2026-10-31T00:25:31+00:00
 
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
এলডিসি উত্তরণে ৩ বছরের ফুরসত, সাময়িক স্বস্তি
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে। কেননা এলডিসি উত্তরণে চলে গেলে রফতানি বাণিজ্যে ছাড় সুবিধা আর মিলত না, এতে বড় রকমের ধাক্কা খেত রফতানি খাত। তাই আপাতত রফতানির সে ধাক্কা কাটল। কেননা বাংলাদেশের মোট রফতানির ৭৩ শতাংশই হয় এই এলডিসি সুবিধা ব্যবহার করে। তিন বছর পেছানোর অর্থ হলো— আরও তিন বছর বাংলাদেশ পণ্য রফতানিতে এ সুবিধা পাবে।

তবে এলডিসি উত্তরণে ৩ বছরের ফুরসত মিললেও সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণে যেসব ক্ষেত্রে সংস্কার করা দরকার সেগুলো ঠিকমতো করতে না পারলে ঝুঁকি থেকেই যাবে। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য সংস্কার, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কার, রফতানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, মানব সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়ানো, কর ও ভর্তুকি খাতের সংস্কার দরকার। 

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তিন বছর সময় পাওয়ার পর সংস্কারে কোনো ঢিলেমি চলবে না। প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো না করতে পারলে সামনে বড় মূল্য দিতে হবে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণে তিন বছর সময় দিয়েছে। যদিও ভিয়েতনামের মতো দেশ নির্ধারিত সময়েই এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ সেটি করতে না পেরে সময় বাড়ানোর আবদেন করেছে। 

অর্থাৎ ভিয়েতনাম প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করে এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছে, বাংলাদেশ পারেনি। এখন কথা হলো তিন বছর যে বাড়তি সময় পেল বাংলাদেশ, সে সময়ের মধ্যেও কি প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে পারবে— এ প্রশ্ন রয়েই যায়। তবে আমি মনে করি তিন বছর সময় বৃদ্ধি মানে তিন বছর ঘুম নয়, তিন বছর যুদ্ধ। যদি এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা এফটিএ করা, ব্যাংক সংস্কার, বন্দর সংস্কার— এই তিনটা সংস্কার করা হয়, তা হলে ২০২৯ সালে এলডিসি উত্তরণ হবে গর্বের। না হলে সামনে বিপদ অপেক্ষা করছে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে। একই সুবিধা পেয়েছে নেপালও। উত্তরণের আগে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও নেপাল সরকার অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের দুদিনের মাথায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে চিঠি দিয়ে সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানায়।

জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে, ইউএনসিডিপির মূল্যায়ন অনুযায়ী বিদ্যমান এলডিসি উত্তরণ কাঠামোয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর কারণ হিসেবে সাধারণত বিবেচনা করা হয় না। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জটিলতা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবেচনার দাবি রাখে।

বর্ধিত প্রস্তুতিকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া ও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে ইউএনসিডিপির কাছে বার্ষিক প্রতিবেদনে নিয়মিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশকে।

যে কারণে আরও সময় চেয়েছিল বাংলাদেশ
বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন, জ্বালানি ও সরবরাহ চেইনের ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএন-সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল সরকার।

তবে অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অতিরিক্ত এই সময় পাওয়া মানেই উত্তরণের চ্যালেঞ্জগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়ে যাবে না। সংশোধিত সময়সীমার আগেই বাংলাদেশকে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের এলডিসি তালিকাভুক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে কৃষি, শিল্প উন্নয়ন, পোশাক রফতানি, রেমিট্যান্স, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি দেশটিকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করে।
২০১৮ এবং ২০২১ সালের টানা দুটি পর্যালোচনায় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক— জাতিসংঘের এই তিনটি যোগ্যতার মানদণ্ডই পূরণ করেছিল বাংলাদেশ।

এরপর ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউএন-সিডিপি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সুপারিশ করে। একই বছরের ৮ জুন ইকোসক সেই সুপারিশ অনুমোদন করে এবং ২৪ নভেম্বর সাধারণ পরিষদ এই উত্তরণে সম্মতি জানায়।
সে সময় কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশকে স্বাভাবিক তিন বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছরের প্রস্তুতিমূলক সময় দেওয়া হয়েছিল। ফলে চূড়ান্ত উত্তরণের জন্য ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারিত ছিল।


কত বড় ধাক্কা ছিল সামনে?
বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৮টি দেশ ও জোটে শুল্কমুক্ত এবং অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইবিএ (এভরিথিং বাট আর্মস) সুবিধা এবং যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার জিএসপি। তথ্য বলছে, বাংলাদেশের মোট রফতানির ৭৩ শতাংশই হয় এই এলডিসি সুবিধা ব্যবহার করে। 

বিশ্বের ৪৪টি এলডিসি দেশকে যে সুবিধা দেওয়া হয়, তার ৬৭ শতাংশ একাই ব্যবহার করে বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশই এলডিসি সুবিধার সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী। এলডিসি উত্তরণ ঘটলে এসব সুবিধা আর মিলবে না।


উত্তরণের পর কী হতো?
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) হিসাবে, উত্তরণের পর গড়ে রফতানিতে ৮ থেকে ১২ শতাংশ শুল্ক বসত। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) হিসাবে ক্ষতি বছরে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে ক্ষতি হতো ৭ বিলিয়ন ডলার। 

ইউএনসিটিএডি ও কমনওয়েলথের যৌথ হিসাবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি বছরে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রফতানি আয় কমতে পারত। শুধু তৈরি পোশাকেই ধাক্কা ছিল ভয়াবহ। ইইউ বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ পোশাক কেনে। ইবিএতে শুল্ক শূন্য শতাংশ। উত্তরণের পর সাধারণ জিএসপিতে শুল্ক ১২ শতাংশ। 

একজন ইউরোপীয় ক্রেতা যদি ১০০ ডলারের পোশাক কেনে, তাকে এখন অতিরিক্ত ১২ ডলার শুল্ক দিতে হতো। সেই শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কারখানার ওপর এসে পড়ত। ক্রেতারা দাম কমাতে বলত, অর্ডার ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ায় চলে যেত। বিজিএমইএর তথ্যমতে, উত্তরণ হলে ২০২৭ সাল থেকেই ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অর্ডার কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ছোট কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যেত।


তিন বছরে যেসব সুবিধা জিইয়ে থাকল
ইইউর বাজার ২০৩২ সাল পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকল। নিয়ম অনুযায়ী এলডিসি থেকে বের হওয়ার পরও ইইউ তিন বছরের ট্রানজিশন পিরিয়ড দেয়। আগে ২০২৬-এ বের হলে এই সুবিধা ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকত। এখন ২০২৯-এ বের হলে ২০৩২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইইউতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পোশাক পাঠাতে পারবে। অর্থাৎ কার্যত আরও ৬ বছর সময় পেল তৈরি পোশাক খাত। এটি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় জয়।

এ ছাড়া ওষুধ শিল্পের ট্রিপস ওয়েভার মিলবে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি ছাড় পায়। ফলে পেটেন্ট ছাড়াই ক্যানসার, ডায়াবেটিসের দামি ওষুধ কম দামে তৈরি করা যায়। বাংলাদেশ বছরে ১৫০টি দেশে ২০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রফতানি করে। উত্তরণ হলে এই সুবিধা ২০৩৪ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল, কিন্তু অনিশ্চয়তা ছিল। তিন বছর বাড়ায় ওষুধ শিল্প নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ করতে পারবে।

তা ছাড়া সেবা খাতে ওয়েভার মিলবে। পর্যটন, আইটি আউটসোর্সিংয়ে এলডিসি দেশগুলো বিশেষ সুবিধা পায়। সেটিও বহাল থাকল। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এলডিসি দেশগুলো কম সুদে ঋণ, অনুদান পায়। জাতিসংঘের হিসাবে এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বছরে ১.৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত সহায়তা পায়। তিন বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, এই তিন বছরকে কাজে লাগাতে ১০ দফা রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আছে— জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), ইইউর জিএসপি প্লাস পেতে শ্রম আইন সংস্কার, রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাটজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, আইটি কাস্টমস ও বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো।


ব্যবসায়ীরা যা বলছেন
এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় পাওয়ায় সবচেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সময়ের আলোকে বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। 

এটাকে আমরা রফতানি বাণিজ্যের জন্য একটা বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছি। এই সাফল্য আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। সরকারের পক্ষ থেকে বেশ জোরালো পদক্ষেপ ছিল। উত্তরণ পেছাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে জাতিসংঘের মহাসচিবের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি লিখেছেন।

তিন বছর সময় বৃদ্ধির এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে সফল এবং টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে হবে। এবারও সরকার এবং বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সফল ও টেকসই উত্তরণের জন্য কিছু উদ্যোগ চলমান আছে। এগুলোকে ত্বরান্বিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তিন বছরের মধ্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে মসৃণ করা, সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারগুলো সুসংহত করা না গেলে সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। তবে আমি মনে করি সে রকম কিছু হবে না। এসটিএসের কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাত থেকে বিজিএমইএ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতি মাসে বৈঠকে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। 

আলোচনা হয়, সমালোচনাও হয়। আশা করি তিন বছরের প্রস্তুতিকালে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে বাংলাদেশ। তবে আপাতত আমরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। কেননা ২০২৬-এ উত্তরণ হলে আমাদের অনেক কারখানা অর্ডার হারাত। এখন সময় পেলাম নিজেদের প্রস্তুত করার। 

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, এই তিন বছরে যদি সুতা ও কাপড়ের ওপর নির্ভরতা না কমে, তা হলে ২০২৯ সালেও একই ধাক্কা আসবে। কারণ ইইউ নতুন নিয়ম করেছে— পোশাক শুল্কমুক্ত পেতে হলে সুতা থেকে কাপড় সব দেশেই তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ এখনও ৬০ শতাংশ কাপড় আমদানি করে। তাই আমাদের সতর্ক হয়ে এগোতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করতে হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   এলডিসি উত্তরণ  ৩ বছর  ফুরসত  সাময়িক স্বস্তি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: