বরাদ্দ বাড়ে ডেঙ্গু কমে না

সমীরণ রায়

জাতীয়

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছরই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। মশক নিধন, কীটনাশক কেনা ও কর্মী নিয়োগে বরাদ্দ

2026-10-31T00:57:25+00:00
2026-10-31T00:57:25+00:00
 
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
দুই সিটির মশক নিধন
বরাদ্দ বাড়ে ডেঙ্গু কমে না
সমীরণ রায়
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছরই বিপুল অর্থ ব্যয় করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। মশক নিধন, কীটনাশক কেনা ও কর্মী নিয়োগে বরাদ্দ বাড়লেও কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত বরাদ্দ ৩২২ কোটি টাকা। গত এক দশকে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রত্যাশিত ফল না আসায় কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দুই সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ব্যয় ৪০৯ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৯৬ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএনসিসি ব্যয় করেছে ৬৮৮ কোটি ৩৯ লাখ এবং ডিএসসিসি ৩২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির বরাদ্দ ২০৮ কোটি এবং ডিএসসিসির ১১৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে ডিএনসিসি এ খাতে ১৮৭ কোটি ৭৫ লাখ এবং ডিএসসিসি ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। এর বড় অংশ ছিল কীটনাশক কেনা ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; ব্যয়ের বিপরীতে কী ফল পাওয়া যাচ্ছে, তা পরিমাপ করা জরুরি। কীটনাশকের মান, সঠিক প্রয়োগ, মশার ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে ওঠা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ফগিং করে উড়ন্ত মশা দমন করলেও এডিস মশার ডিম ও লার্ভা ধ্বংস না হলে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হবে না। তাই বাসাবাড়ি, ছাদ, পানির ট্যাঙ্ক ও নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কীটনাশক কেনা ও ছিটানোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নিতে হবে। মশা নিয়ে কাজ করার জন্য দুই সিটি করপোরেশনে পরিকল্পনাবিদ ও জীববিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে পৃথক ইউনিট গঠন করা দরকার।

কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক উদ্যোগ প্রয়োজন। ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ, নিয়মিত নজরদারি এবং রোগীর ঠিকানা বিশ্লেষণ করে আক্রান্ত এলাকার আশপাশে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিযোগ পাওয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এক সপ্তাহ ধরে স্বাভাবিকের তিন গুণ কর্মী নিয়ে পুরো ওয়ার্ডে সকালে লার্ভা নিধন ও বিকেলে উড়ন্ত মশা দমনের কার্যক্রম চলে। এতে জনপ্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা হয়েছে। তার দাবি, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে এবং চলতি বছরও কমেছে।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, মশার প্রাদুর্ভাব কমলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ না কমা উদ্বেগজনক। হাসপাতাল থেকে রোগীর ঠিকানা সংগ্রহ করে কুইক রেসপন্স টিম আক্রান্ত এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম চালায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশক নিয়ন্ত্রণের ব্যয় শুধু কীটনাশক ও ফগিংয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রজননস্থল ধ্বংস, ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা, নজরদারি ও জনসচেতনতায় গুরুত্ব দিতে হবে। কোন এলাকায় কতটি প্রজননস্থল ধ্বংস হলো এবং মশার ঘনত্ব কতটা কমল, তার পরিমাপযোগ্য হিসাবও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সময়ের আলো/ প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   বরাদ্দ  ডেঙ্গু  দুই সিটি  মশক নিধন  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: