সংগৃহীত ছবিমুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে চুরির ঘটনা। উপজেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। চলতি মাসে বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ ও মামলা হলেও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার কিংবা জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া, কাকালদি, মালখানগর, রশুনিয়া, কেয়াইন, রাজানগর, খারশুল, লতব্দী, মধ্যম শিয়ালদী, ইছাপুরা ও বালুচর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। সুলতান বেপারীর বাড়ি ও প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
চুরির ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া গ্রামের যমুনা গ্রুপের আবাসিক প্রকল্পে একাধিকবার মালামাল চুরি। এ ছাড়া স্থানীয় সাংবাদিক আমির হোসেন ঢালীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন, মো. জামাল খান, মো. আব্দুল্লাহ ও জামাল দেওয়ানের দোকান ও বাসা থেকেও কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা।
গত ২১ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া বকুলতলা গ্রামে যমুনা গ্রুপের আবাসিক প্রকল্প থেকে মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে। একই রাতে ইছাপুরা থেকে স্থানীয় সাংবাদিক আমির হোসেন ঢালীর দোকানের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
যমুনা গ্রুপের আবাসিক প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বলেন, গত দুই মাসে তাঁদের প্রকল্পে পাঁচ থেকে সাতবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে। সর্বশেষ ২১ অক্টোবর চুরির সময় চোরদের ধাওয়া করলে তারা অটোরিকশায় করে মালামাল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ধাওয়ার মুখে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, চোরদের একজনকে তারা চিনতে পেরেছেন। তার নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। বারবার চুরির ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।
সিরাজদিখান বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, থানার সামনে উপজেলা শহরের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকায় চুরির ঘটনা সবাইকে বিস্মিত করেছে। মনে হচ্ছে, চোরেরা পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। গত এক দশকে দুই মাসের ব্যবধানে এত বেশি চুরির ঘটনা ঘটেনি। এ পরিস্থিতিতে উপজেলার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চুরি প্রতিরোধে পুলিশ পরিকল্পিত উদ্যোগ নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
সময়ের আলো/জোই