পশ্চিমবঙ্গে বদলে যাচ্ছে পাঠ্যবই, ‘পানি-আব্বা-আম্মা’র বদলে ব্যবহার হবে ‘জল-বাবা-মা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষার পাঠ্যপুস্তকে বেশ কিছু শব্দ ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন বইয়ে ‘পানি’, ‘আব্বা’ ও ‘আম্মি’র মতো

2026-10-31T22:50:14+00:00
2026-10-31T22:50:14+00:00
 
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গে বদলে যাচ্ছে পাঠ্যবই, ‘পানি-আব্বা-আম্মা’র বদলে ব্যবহার হবে ‘জল-বাবা-মা’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষার পাঠ্যপুস্তকে বেশ কিছু শব্দ ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন বইয়ে ‘পানি’, ‘আব্বা’ ও ‘আম্মি’র মতো শব্দের পরিবর্তে ‘জল’, ‘বাবা’ ও ‘মা’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যটির সিলেবাস ও কারিকুলাম পর্যালোচনা কমিটি।

কমিটির প্রধান ও কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সাধারণত বাংলায় কথা বলার সময় এই শব্দগুলো ব্যবহার করি না। এর বদলে আমরা প্রতিদিন যেসব শব্দ ব্যবহার করি, যেমন—‘জল’, ‘বাবা’, ‘মা’ সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

নতুন পাঠ্যবইয়ের প্রথম সংস্করণ ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে এবার পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘সময় খুবই কম ছিল। আগামী ২ জানুয়ারির মধ্যে নতুন বইগুলো পৌঁছে দিতে হবে। ১২০ মিলিয়নেরও (১২ কোটি) বেশি বই ছাপাতে হবে। তাই এবার আমরা সিলেবাসে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনিনি। এর বদলে, যেসব ছোটখাটো সংশোধনী ও পরিমার্জন খুব জরুরি ছিল, কেবল সেগুলোই করা হয়েছে।’

ইতিহাসের পাঠ্যেও আসছে পরিবর্তন
নতুন পাঠ্যবইয়ে উত্তর প্রদেশের সিনাউলি ও হরিয়ানার রাখিগড়িতে সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কারের বিষয়গুলো যুক্ত করা হবে। এসব আবিষ্কারকে আর্য অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রচলিত কিছু তত্ত্বের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেবাশীষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের শেখানো হয়েছিল যে আর্যরা ভারতে সভ্যতা নিয়ে এসেছিল এবং তারাই প্রথম রথ ও ঘোড়া নিয়ে আসে। কিন্তু উত্তর প্রদেশের সিনাউলি এবং হরিয়ানার রাখিগড়িতে সাম্প্রতিক খননকার্য এই তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সাহায্য করেছে।’

কমিটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিহাসের বইয়ে মুঘল আমল, ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং মার্ক্সবাদ-সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শিবাজী উৎসব’ এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘মেবার-পতন’-এর মতো কবিতা ও নাটক রাখা হচ্ছে। তবে বাদ পড়ছে সিরাজউদ্দৌলা নাটক এবং রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতা।


বাদ পড়ছে কন্যাশ্রী ও সিঙ্গুর আন্দোলনের অধ্যায়
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সিঙ্গুরে ভূমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলন এবং স্কুলছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প নিয়ে ইতিহাসের বইয়ে অধ্যায় যুক্ত করেছিল। নতুন পাঠ্যক্রমে এই দুটি বিষয়ও বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য সরকার স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনছে। তবে সিলেবাস ও কারিকুলাম পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন তখনো সরকারের হাতে পৌঁছায়নি।

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, ‘নো-ডিটেনশন’ নীতি বাতিল এবং ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (এনসিসি) কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং ‘পাস-ফেল’ নীতি ফিরিয়ে আনার পক্ষে। সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম এবং ব্রতচারী স্কুলে ফিরিয়ে আনা উচিত।’ 

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   পশ্চিমবঙ্গ  পাঠ্যবই  পানি  আব্বা  আম্মা  জল-বাবা-মা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: