প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। কূটনৈতিক আলোচনার দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে এসব প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলজাজিরায় সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে। আরাগচি জানান, কাতার ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা ও পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যোগাযোগ অব্যাহত রাখায় দোহা ও ইসলামাবাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আরাগচি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক হতে যাচ্ছে—এমন খবর গণমাধ্যমের জল্পনা ছাড়া কিছু নয়। এই মুহূর্তে মুখোমুখি আলোচনার প্রয়োজন দেখছে না তেহরান। ভবিষ্যতে সরাসরি কিংবা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হবে কি না, তা নির্ভর করবে ইরানের শর্তের বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠির বিষয়ে আরাগচি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চিঠিটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ তৈরিতে ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে তিনি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করলে সেটি হবে দেশটির আরেকটি নীতিগত ভুল।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের মূল শর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অঞ্চলজুড়ে মোতায়েন মার্কিন সেনা কমানো, তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ছাড় পুনর্বহাল এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সব সম্পদ অবমুক্ত করা। এর মধ্যে কাতারে থাকা অর্থও রয়েছে। পাশাপাশি লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের সব সংঘাত বন্ধের দাবি জানিয়েছেন আরাগচি।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে আরাগচি বলেন, প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের প্রস্তাবই বর্তমানে বিবেচনাধীন একমাত্র উদ্যোগ। এ প্রস্তাবে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত একটি সামুদ্রিক চলাচল পথের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং বিকল্প নৌপথগুলো বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
আরাগচি জানান, ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা পাঁচ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে চলমান আলোচনায় তা আরও কমিয়ে দুই দিনে আনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি