মহাকাশে শক্ত অবস্থান গড়তে তুরস্কের মহাপরিকল্পনা। ছবি : সংগৃহীত মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামের একটি ছবি দেয়ালে টাঙানো। ছবিতে ওপর থেকে দেখা যাচ্ছে বিশাল মসজিদ প্রাঙ্গণ, আর সেখানে হাজিদের মনে হচ্ছে ক্ষুদ্র বিন্দুর মতো। ছবিটির দিকে গর্বের সঙ্গে তাকিয়ে ছিলেন তুরস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (তুবিতাক উজে) পরিচালক মেহমেত নেফেস।
তিনি জানান, ছবিটি তুলেছে তুরস্কে তৈরি একটি মহাকাশ ক্যামেরা। ক্যামেরাটি একটি স্যাটেলাইটে স্থাপন করে মক্কার ছবি তোলা হয়। তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই ছবিটি তোলা হয়েছিল। নেফেসের ভাষায়, ‘আমাদের অপটিক্যাল দল এই ছবি নিয়ে বিশেষভাবে গর্বিত। আমরা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছি এবং দেশের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা তৈরি করছি।’
তবে মক্কার ছবি তোলার মধ্যেই তুরস্কের মহাকাশ-স্বপ্ন সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির লক্ষ্য এবার চাঁদে পৌঁছানো, এমনকি ভবিষ্যতে দূর মহাকাশেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করা।
২০২৭ সালে প্রথম চন্দ্রাভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তুরস্ক। এটি দেশটির বৃহত্তর জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির অংশ। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নিজস্ব প্রযুক্তি ও দক্ষতা গড়ে তোলা, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা।
চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত ৭৭তম আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনটিক্যাল কংগ্রেসে (আইএসি) নিজেদের মহাকাশ পরিকল্পনা তুলে ধরে আঙ্কারা। সেখানে দেশটি জোর দিয়ে জানায়, চাঁদে পৌঁছানোর অভিযানে ব্যবহৃত প্রযুক্তির বড় অংশই তৈরি হবে তুরস্কে।
২০২৭ সালের প্রথম ধাপের অভিযানে একটি মহাকাশযান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে এবং দেড় বছর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে পারবে। এরপর চাঁদের পৃষ্ঠে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের চেষ্টা করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে চাঁদে নিরাপদে অবতরণ এবং গবেষণার জন্য একটি রোভার পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। দুই অভিযানই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে স্পেসএক্সের রকেটে উৎক্ষেপণ করা হবে।
অভিযান সফল হলে চাঁদে অবতরণ করা অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হবে তুরস্ক।
প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য
চাঁদে অভিযান পরিচালনা করা সহজ নয়। মহাকাশযানকে প্রচণ্ড তাপমাত্রার ওঠানামা, তীব্র বিকিরণ এবং পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের দীর্ঘ বিরতির মতো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। নতুন মহাকাশ কর্মসূচি হাতে নেওয়া দেশগুলোর জন্য এসব চ্যালেঞ্জ বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য শুধু চাঁদে পৌঁছানো নয়; বরং মহাকাশে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ—যেমন অ্যাভিওনিকস ও বিকিরণ-সহনশীল মাইক্রোচিপ—দেশেই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে আঙ্কারা।
তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাচির জানিয়েছেন, চন্দ্রাভিযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ৮৭ শতাংশই দেশে তৈরি হয়েছে। গত দুই দশকে যোগাযোগপ্রযুক্তি, বিমান চলাচল, উপকরণবিজ্ঞান ও প্রপালশন ব্যবস্থায় দেশটির অর্জিত অভিজ্ঞতা এই অভিযানের ভিত্তি তৈরি করেছে বলেও মনে করেন তিনি।
দুই দশকের প্রস্তুতি
চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকের প্রস্তুতি। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ‘বিলস্যাট’ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়। পৃথিবী পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি ওই স্যাটেলাইটের প্রকল্পের মধ্য দিয়ে তুরস্কের প্রকৌশলীরা গ্রাউন্ড স্টেশন ও বিশেষ পরিচ্ছন্ন গবেষণাগার তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পাশাপাশি ‘গেজগিন’ নামের ছবি প্রক্রিয়াকরণ ও সংকোচনব্যবস্থার মতো নিজস্ব যন্ত্রাংশও তৈরি করেন।
এর এক দশক পর তুরস্কের প্রকৌশলীরা নির্মাণ করেন দেশটির প্রথম পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট ‘রাসাত’। এতে যুক্ত হয় দেশীয় ফ্লাইট কম্পিউটার ও উন্নত ট্রান্সমিটার। এই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় তুর্কি মহাকাশ সংস্থা (টিইউএ)।
এরপর ২০২৩ সালে উৎক্ষেপণ করা হয় তুরস্কের প্রথম উচ্চ রেজল্যুশনের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট ‘ইমেসে’। এর মাধ্যমে নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (এলইও) কাজের সক্ষমতা অর্জনে আরও এগিয়ে যায় দেশটি। পৃথিবী থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার উচ্চতার এই কক্ষপথে স্যাটেলাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুরস্কের নিজস্ব মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা বাড়ায়।
পরবর্তী বড় অর্জন ‘তুর্কস্যাট ৬এ’। এটি তুরস্কের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট, যা পৃথিবী থেকে বিষুবরেখার ওপর প্রায় ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার উচ্চতায় জিওস্টেশনারি কক্ষপথে অবস্থান করে। টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার কাজে এ ধরনের কক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়।
তুবিতাক উজের পরিচালক নেফেস বলেন, নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ থেকে জিওস্টেশনারি কক্ষপথে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগ, তাপ সুরক্ষা ও স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট সফটওয়্যার পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে তুরস্ক। নিজস্ব প্রপালশন প্রযুক্তি ও পরীক্ষিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে চন্দ্রাভিযান হবে এই অগ্রযাত্রার পরবর্তী ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্য
মহাকাশ গবেষণায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে তুরস্ক। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষর করেছে। চাঁদ ও এর বাইরের মহাকাশে শান্তিপূর্ণ অনুসন্ধান, তথ্য বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে এই চুক্তি তৈরি করা হয়েছে। এতে এখন ৭৭টি দেশ যুক্ত রয়েছে। তবে চীন ও রাশিয়া এই উদ্যোগের বাইরে।
অন্যদিকে, চীনের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্টারন্যাশনাল লুনার রিসার্চ স্টেশন’ (আইএলআরএস) প্রকল্পে যোগ দেওয়ার আবেদনও করেছে আঙ্কারা। এতে যুক্ত হতে পারলে ন্যাটোর প্রথম সদস্যদেশ হিসেবে চীনের এই চন্দ্রাভিযান কাঠামোয় অংশ নেবে তুরস্ক।
তুর্কি মহাকাশ সংস্থার প্রধান ইউসুফ কিরাচ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। এশিয়া-প্যাসিফিক স্পেস কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন, আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনটিক্যাল ফেডারেশন এবং আর্টেমিস অ্যাকর্ডস—বিভিন্ন কাঠামোয় যুক্ত থেকে সেই চেষ্টা করছে তুরস্ক।
তবে মহাকাশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামরিক ব্যবহারের বিষয়টিও জড়িয়ে আছে। সামরিক যোগাযোগ, নেভিগেশন ও নজরদারিতে স্যাটেলাইটের ব্যবহার এখন অপরিহার্য। ইউক্রেন যুদ্ধেও বেসরকারি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি সামনে এসেছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংক সেবায় বিধিনিষেধ আরোপের পর ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।
এমন প্রেক্ষাপটে মহাকাশে অস্ত্রের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করে, তাদের একটি মহাকাশ অস্ত্র কক্ষপথে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনটিক্যাল কংগ্রেসের উদ্বোধনী বক্তব্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মহাকাশে অস্ত্রের বিস্তারের নিন্দা জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি তিনি। সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে তুরস্ক ২১টি দেশের সমর্থন পাওয়া ‘আনতালিয়া ডিক্লারেশন অন স্পেস ফর পিস’ উদ্যোগও সামনে আনে। এতে মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে রাখার আহ্বান জানানো হয়। তবে সম্মেলনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ঘোষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।
সোমালিয়ায় মহাকাশ বন্দর
বিদেশি অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা কমাতে সোমালিয়ায় মহাকাশ বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও নিয়েছে তুরস্ক। ভারত মহাসাগরের উপকূলে রাজধানী মোগাদিশু থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে ওয়ারশেখ শহরে এটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
সোমালিয়াকে মহাকাশ বন্দর নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান। নিরক্ষরেখার কাছাকাছি হওয়ায় এখান থেকে রকেট উৎক্ষেপণে তুলনামূলক কম জ্বালানি লাগবে। একই সঙ্গে বেশি ওজনের সরঞ্জাম কক্ষপথে পাঠানো সম্ভব হবে। ভারত মহাসাগরের পাশে অবস্থানের কারণে জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে রকেট না পাঠিয়েও উৎক্ষেপণ করা যাবে।
ফরাসি গায়ানায় অবস্থিত ইউরোপের মহাকাশ বন্দরও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি। তুরস্কের পরিকল্পনাও অনেকটা সেই মডেল অনুসরণ করছে। ডয়চে ভেলের প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে ওয়ারশেখে নির্মাণকাজ শুরুর চিত্র দেখা গেছে। প্রকল্পের নিরাপত্তায় সেখানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করেছে তুরস্ক।
তুর্কি মহাকাশ সংস্থার প্রধান ইউসুফ কিরাচ বলেন, স্পেসএক্সের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ পেতে এখন দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই তুরস্কের পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর জন্যও মহাকাশে স্বাধীনভাবে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
সোমালিয়ায় এই প্রকল্পকে পূর্ব আফ্রিকায় তুরস্কের প্রভাব বিস্তারের একটি মাধ্যম হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে দেশটিতে আল-শাবাবের তৎপরতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পূর্ব আফ্রিকাবিষয়ক গবেষক ও সাংবাদিক ফয়সাল আলী মনে করেন, ওয়ারশেখ এমন একটি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত, যা মূলত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। আল-শাবাব আশপাশের অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তার মত।
তবে সোমালিয়ার বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। মোগাদিশুতে সরকার পরিবর্তন হলে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পটির জন্য দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে।
প্রকল্পের জমি বরাদ্দ, আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার, আয় বণ্টন এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়েও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফয়সাল আলী। তার মতে, এত বড় প্রকল্পের জন্য বিস্তৃত রাজনৈতিক সমর্থন ও বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সোমালিয়া ও তুরস্কের সম্পর্কবিষয়ক গবেষক আবদিনুর দাহির অবশ্য প্রকল্পটিকে সোমালিয়ার জন্য নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের আয়োজক হওয়া সোমালিয়াকে উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদান রাখার সুযোগ দেবে। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং তুরস্কের প্রযুক্তি, অর্থ ও প্রকৌশল সক্ষমতা—দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী কাচিরও প্রকল্পে সোমালিয়ার মানুষের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, মহাকাশ বন্দরের প্রথম কর্মী হিসেবে এমন একজন সোমালি নাগরিককে নিয়োগ দিতে চান, যিনি তুরস্কে মহাকাশ প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তার ভাষায়, ‘এই প্রকল্প শুধু তুরস্কের জন্য নয়। এটি সোমালিয়ার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বেরও বিষয়।’
সব মিলিয়ে চাঁদে যাওয়ার প্রস্তুতি, নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি এবং সোমালিয়ায় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণ—এই তিন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান গড়তে চাইছে তুরস্ক। তুবিতাক উজের পরিচালক নেফেসের মতে, সাফল্য শুধু একটি অভিযান সম্পন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ধাপে ধাপে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলাই আসল লক্ষ্য। এটি একবারের কোনো অভিযান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি।
সময়ের আলো/জেডি