নড়াইলে মধুমতী নদীর সর্বগ্রাসী রূপ, তিন কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন

মোস্তফা কামাল, নড়াইল

সারাদেশ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামজুড়ে মধুমতী নদীর ভাঙন চরম ও সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। গত দুই মাসেরও বেশি

2026-11-01T12:14:30+00:00
2026-11-01T12:14:30+00:00
 
  রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
নড়াইলে মধুমতী নদীর সর্বগ্রাসী রূপ, তিন কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন
মোস্তফা কামাল, নড়াইল
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম 
নড়াইলে মধুমতী নদীর সর্বগ্রাসী রূপ, তিন কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামজুড়ে মধুমতী নদীর ভাঙন চরম ও সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বসতবাড়ি, একটি ঐতিহ্যবাহী একতলা বড় মসজিদ, কয়েক শত একর ফসলি জমি ও অসংখ্য গাছপালা। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন শুধু ভিটেমাটি ও সব হারানো মানুষের হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস।

আমডাঙ্গা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর দক্ষিণ পাড়ে কোনো ভাঙন না থাকলেও উত্তর পাড়ে তাকালেই চোখে পড়ে ভাঙনের করুণ দৃশ্য। নদী তীর থেকে প্রায় ৩০-৪০ গজ দূর পর্যন্ত নদীর মাঝে বিচ্ছিন্নভাবে নারকেল, সুপারি ও কলাগাছের অগ্রভাগ তীব্র স্রোতে দুলছে যা একসময় এখানে লোকালয় ও ঘরবাড়ি থাকার সাক্ষ্য বহন করছে।



ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে আমডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রামের একমাত্র পাকা সড়কসহ অন্তত আরও তিন শতাধিক পরিবার। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বাপ্পি শেখ, অহিদ মুন্সী, ইনসান মোল্লা ও মুনছুর মোল্লা জানান, তাদের বছরের পর বছর গড়ে তোলা ভিটেমাটি ও আবাদি জমি চোখের সামনে নদী গ্রাস করে নিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মুনছুর মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, গত সপ্তাহে চোখের সামনে আমাদের এলাকার বড় একতলা বিশিষ্ট মসজিদটি নদীতে চলে গেল, আমরা কিছুই করতে পারলাম না। এখন এলাকায় ঠিকমতো নামাজ পড়ারও জায়গা নেই।



নদীতে পানি ও তীব্র স্রোত বাড়লেই প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাাউবো) বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙনের ব্যাপ্তির তুলনায় এই অস্থায়ী চেষ্টা নিতান্তই নগণ্য এবং তা কোনো কাজেই আসছে না। প্রতি বছরই এই মৌসুমে নিঃস্ব হতে হচ্ছে শত শত পরিবারকে। তাই তারা জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

স্থানীয় জয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সুমন হোসেন জানান, আমডাঙ্গা গ্রামের পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ না হলে পুরো গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোত এবং অবৈধ বালি উত্তোলনের কারণে এই এলাকায় ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে আপদকালীন অস্থায়ী কাজ চলছে। পাশাপাশি আমডাঙ্গা এলাকায় ভাঙন রোধে ১ হাজার ৭০০ মিটারের একটি স্থায়ী তীর রক্ষা প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   নড়াইলে মধুমতী নদীর সর্বগ্রাসী রূপ  তিন কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: