নড়াইলে নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন জনপদ

মোস্তফা কামাল, নড়াইল

সারাদেশ

নড়াইলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি, নবগঙ্গা ও চিত্রা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙনে জেলার বিভিন্ন এলাকায়

2026-09-11T13:00:04+00:00
2026-09-11T13:00:04+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
নড়াইলে নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন জনপদ
মোস্তফা কামাল, নড়াইল
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০০ পিএম 
নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন নড়াইল-২ আসনের এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু। ছবি : সময়ের আলো
নড়াইলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি, নবগঙ্গা ও চিত্রা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বসতবাড়ি, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে নদীতীরের হাজারো মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ভাঙনকবলিত লোহাগড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চু। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। একই এলাকায় পাজারখালি মহাশ্মশানের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে হবখালী ইউনিয়নের সুব্দিডাঙ্গা, ভান্ডালীপাড়াসহ আশপাশের এলাকার চিত্র। নদী এখন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। সীমানাপ্রাচীরেও ফাটল ধরেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, হাজারো মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে বা অন্য কোনো কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে পাজারখালি মহাশ্মশানের মূল কাঠামোর বড় অংশ। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাত জায়গা নদীতে তলিয়ে গেছে। পানির নিচে চলে গেছে স্বজনদের বসার স্থান ও মরদেহ দাহ করার জায়গা। পার্শ্ববর্তী তিন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এই শ্মশানে মরদেহ সৎকার করেন। শ্মশানের জায়গা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় কারও মৃত্যু হলে সৎকার করা নিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

শুধু স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শ্মশান নয়, আশপাশের বহু বসতবাড়িও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই দফা ভাঙনের পর নতুন করে অনেক বসতভিটায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরের পরিবারগুলো।

এদিকে লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকাতেও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চু। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা বা প্রতিরক্ষামূলক কাজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো নড়াইল জেলায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেলাজুড়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হলে বর্ষার শেষ দিকে ভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষ। সাময়িক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   নড়াইল  নদী  তীব্র ভাঙন  বিলীন  জনপদ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: