পদ্মার পানিতে প্লাবিত দুই ইউনিয়ন, ১৮ বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও

2026-09-11T11:34:26+00:00
2026-09-11T11:34:26+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
পদ্মার পানিতে প্লাবিত দুই ইউনিয়ন, ১৮ বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি। ছবি : সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুই ইউনিয়নের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা উজানের ঢলে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়েছে প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়তে থাকায় দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বাড়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতেও পানি ঢুকে পড়েছে। এতে রোপা আমন, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

তিনি আরও বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এবং বন্যা দীর্ঘায়িত হলে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।

দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, পানি বাড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা না দেওয়া হলেও বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষ সেখানে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পানিবন্দি মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   পদ্মার পানি  প্লাবিত  ইউনিয়ন  বিদ্যালয়  পাঠদান স্থগিত  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: