হজ পালনের উদ্দেশ্যে বিমানে হজযাত্রীরা । ছবি : সংগৃহীতআগামী বছরের হজযাত্রা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বিমানভাড়া কমানো, উন্নত আবাসন নিশ্চিত করা এবং হজের কোটা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত হজযাত্রী নেওয়ার সুযোগ চেয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের হজের জন্য বিমানভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের তুলনায় এ ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কম। এর আগে ২০২৩ সালে হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।’
তিনি জানান, আগামী হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী খরচে মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করতেও কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কাজ করেছে।
বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত হজ কোটা বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সাশ্রয় ও অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই বছর ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীর কাছ থেকে অব্যবহৃত অর্থ হিসেবে পাওয়া ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা থাকা ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
ধর্মমন্ত্রী জানান, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩১০ জনের জন্য কেটে রাখা ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জনের জন্য কেটে রাখা ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ রিয়াল ফেরত এসেছে। গত ২৯ অক্টোবর অর্থটি বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক (Nusuk) সিস্টেমে জমা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিস সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে। তথ্য যাচাই ও আলোচনার পাশাপাশি অর্থ ফেরতের অনুরোধও জানানো হয়।’
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার এ উদ্যোগ জনাব তারেক রহমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।’
এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবের রাজকীয় সরকার, দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যগত বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ক্যানসার, কিডনি জটিলতা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হজে পাঠানোর ক্ষেত্রে সৌদি প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের হজে পাঠানো হয়। এতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।’ এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের হজে না পাঠাতে হজ এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ, স্বচ্ছ ও সেবামুখী করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। হজযাত্রীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
হজযাত্রীদের আর্থিক অধিকার সুরক্ষা, সেবার মান বাড়ানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এসকে