ছবি : সংগৃহীত প্রকাশ্যে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে স্বাধীন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
এক বিবৃতিতে জেজেইউ জানায়, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে কারও দ্বিমত বা আপত্তি থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে দ্বিমত প্রকাশ, সমালোচনা ও প্রতিবাদের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তা যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করতে পারে।
জেজেইউ মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ, মতামত তুলে ধরা এবং সমালোচনার জবাব দেওয়ার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত।
বিবৃতিতে গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকার পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য প্রেস কাউন্সিলকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। জেজেইউর মতে, কার্যকর প্রতিকারব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায়ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জেজেইউ। কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যাতে ভয়ভীতি, হামলা কিংবা চাপের মুখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সময়ের আলো/এসএকে