প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৬ পিএম
নিখোঁজের সাড়ে চার মাস পর শিশুর সন্ধানে খনন। ছবি : সময়ের আলোফরিদপুরের সদরপুরে নিখোঁজের সাড়ে চার মাস পর আট বছর বয়সী শিশু সামিউল ইসলামের লাশ উদ্ধারের আশায় রাতভর মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত খুঁড়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে সোমবার রাত ৩টা পর্যন্ত উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের একটি বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। পিবিআইয়ের তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং এ ঘটনায় আটক চারজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির একটি তালাবদ্ধ কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ইটের পাকা মেঝে ভেঙে মাটি খুঁড়েও শিশুটির লাশের সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ সামিউল ইসলাম উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াকান্দি এলাকার প্রবাসী মিরাজুল মল্লিকের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সামিউল নিখোঁজের ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে রোববার ফরিদপুর সদর ও সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকা থেকে চারজনকে আটক করে পিবিআই। তারা হলেন সদরপুরের নয়াকান্দি গ্রামের ধনা মাতুব্বরের ছেলে আলামিন (৩৬), নালু ফরাজীর ছেলে মোস্তফা ফরাজী (৫০), নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামের মজনু মাতুব্বরের ছেলে ফরিদ মাতুব্বর (৩৫) এবং একই গ্রামের হানিফ মাতুব্বরের ছেলে সুজন মাতুব্বর (৩৭)।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নয়াকান্দি গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে সেকেন মোল্যার দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী বেগমের (৩৫) বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটির একটি তালাবদ্ধ কক্ষে ইটের পাকা মেঝে ভেঙে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি খুঁড়ে তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় ছয় ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করা হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। অভিযান দেখতে ঘটনাস্থলে কয়েকশ মানুষ ভিড় করেন। রাত ৩টার দিকে তল্লাশি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় সামিউল। পরদিন তার চাচা সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের। পরে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
এ বিষয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, শিশু সামিউলের নিখোঁজের ঘটনায় লাশ উদ্ধারের চেষ্টা ও তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জোই