প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ পিএম
এর আগে এমপিপুত্র মিন্টুর তিনদিনের রিমান্ড শেষ হয় গত শুক্রবার। ছবি : সংগৃহীতনাটোরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুর দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মিন্টু স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএপির যুগ্মআহবায়ক আব্দুল আজিজের ছেলে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে গুরুদাসপুর থানার অতিরিক্ত চিপ জুডিশিয়াল আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়। এতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম অভিযুক্ত মিন্টুর পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে এমপিপুত্র মিন্টুর তিনদিনের রিমান্ড শেষ হয় গত শুক্রবার। ওই রিমান্ড চলাকালেই মামলাটি থানা-পুলিশের কাছ থেকে নাটোর ডিবি কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
তিনদিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার বিকেলে মিন্টুকে আবার আদালতে হাজির করে আরও পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন, এ মামলার নতুন তদন্ত অফিসার শফিকুল ইসলাম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, রিমান্ড শুনানিতে মিন্টুর আইনজীবী স্বপনের বিরোধিতা করেন। তার যুক্তি ছিল, মিন্টুকে ইতোমধ্যে একবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাই দ্বিতীয়বার রিমান্ডের প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ কোর্ট ইন্সিপেক্টর-২ মশিউর রহমান জানায়, আগের রিমান্ড হয়েছিল অন্য তদন্ত কর্মকর্তার সময়ে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তারও আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, শুনানির সময় মিন্টুকে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড মঞ্জুরের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরে হামলার শিকার হন ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়। ওই দিন হাসপাতালে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে অবরুদ্ধ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে বাবার কথায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মিন্টু।
শাকিল হত্যা মামলায় অন্য দুই আসামি আনিসুর রহমান ও আল-আমিন নামের আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদেরও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
সময়ের আলো/এনএন