প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি : সংগৃহীততৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল কিংবা পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।
বিবৃতিতে মাহদী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ও এ শিল্পের বিকাশ এবং শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়।
তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমিকবান্ধব সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দুটি ঈদে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।
পোশাকশিল্পের সুরক্ষায় নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার পরও একটি চিহ্নিত মহল এ খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিষয়টি গভীর উদ্বেগের।
তিনি আরও বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের উসকানি ও নাশকতার মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারখানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের গাড়ি ও স্থাপনায় আক্রমণের মতো কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পলাতক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণও ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।
কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকেরা—এ কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, এতে বেকারত্ব বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়বে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার যেমন নিশ্চিত করা হবে, তেমনি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে সাধারণ পোশাকশ্রমিকদের গুজব, বিভ্রান্তি ও উসকানিতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আশ্বস্ত করেন, গার্মেন্টস খাতের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিকদের যেকোনো যৌক্তিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার সব সময় তাদের পাশে থাকবে।
সময়ের আলো/এসএকে