নাসিমা বেওয়া। ছবি : সংগৃহীতকুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদক মামলায় পাঁচ মাস জেল খেটে বেরিয়ে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন এক মাদকাসক্ত ছেলে। প্রাণভয়ে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অসহায় মা। ঘটনাটি ঘটেছে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের কামাতআঙ্গারীয়া গ্রামের দফাদার পাড়ায়।
ভুক্তভোগী নাসিমা বেওয়া (৪৭) ওই গ্রামের মৃত হবিবর রহমানের স্ত্রী। তিন বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি বড় ছেলে রাজু মিয়া (২২), রাজুর স্ত্রী, সাত বছরের নাতি মিনহাজ এবং ছোট ছেলে লিমনকে (১৮) নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় ছেলে রাজু মিয়া মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বছর খানেক আগে সন্তান ও স্বামী রেখে ঢাকায় চলে যান স্ত্রী। স্ত্রীর চলে যাওয়ার পর মাদকাসক্ত রাজু আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মাদকের টাকার জন্য সে মায়ের ওপর নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত রাজুকে ১০০ টাকা জরিমানা ও ৫ মাসের কারাদণ্ড দেন। রাজু জেলে যাওয়ার ভয়ে তার ছোট ভাই লিমনও ঢাকায় চলে যায়।
এদিকে পাঁচ মাসের সাজা শেষে রোববার (১ নভেম্বর) জেল থেকে মুক্ত হয়েই মোবাইলে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন রাজু। কোনো উপায় না পেয়ে ওই দিনই নাতি মিনহাজকে নিয়ে নিজের বাপের বাড়ি পাইকেরছড়ায় চলে যান মা নাসিমা বেওয়া। এদিকে বাড়িতে এসে রাজু ভাঙচুর চালায় এবং মাকে খুঁজতে থাকে।
প্রাণ বাঁচাতে রোববার রাতে থানায় যান নাসিমা বেওয়া। তবে থানা পুলিশ তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। পুলিশের পরামর্শে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে এসে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানান তিনি।
নাসিমা বেওয়া বলেন, আমি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। থানায় গিয়েছিলাম, পুলিশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পাঠিয়েছে। ওনার কাছে আসলাম, উনি আবার থানায় যেতে বললেন। রাজু দেখা পেলে আমাকে মেরে ফেলবে।
ঘটনার বিষয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে রোববার রাতে আমি তার বাড়িতে যাই। কিন্তু রাজু কারও কোনো কথা শুনতে চাইছে না। সে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং ঘরবাড়ির তালা ও বেড়া ভেঙে ফেলেছে। মাঝে মাঝে সে আত্মহত্যার হুমকিও দিচ্ছে। প্রাণভয়ে তার মা নাতিকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান, অভিযোগকারী নারী আমার কাছে এসেছিলেন। তাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওসি আজিম উদ্দিন জানান, নাসিমা বেওয়া এসেছিলেন কি না আমি কোর্টে থাকার কারণে জানি না। তিনি থানায় আসলে জিডি নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা