উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স। ছবি : সংগৃহীতআজমিরীগঞ্জ উপজেলায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের কর্মকর্তা পদ শূন্য রয়েছে। কোথাও বছরের পর বছর নেই নিয়মিত কর্মকর্তা, কোথাও অন্য উপজেলার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। আবার কোথাও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে চলছে দাফতরিক কার্যক্রম।
উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, শিক্ষা, মৎস্য ও পল্লি উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দাফতরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে জেলার একজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ২ আগস্ট থেকে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে (এলজিইডি) নেই উপজেলা প্রকৌশলী। ৩১ আগস্ট থেকে শূন্য রয়েছে বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তার পদ।
শিক্ষা খাতেও রয়েছে কর্মকর্তা-সংকট। গত ১৮ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর নবীগঞ্জের একজন কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, চলতি বছরের ১ নভেম্বর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদলি হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তিন মাসের প্রশিক্ষণে থাকায় তার দায়িত্বও অন্য উপজেলার একজন কর্মকর্তা অতিরিক্তভাবে পালন করছেন।
উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়েও রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। গত ৯ আগস্ট ইউএনও বদলি হওয়ার পর থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা থেকে একজন কর্মকর্তাকে আজমিরীগঞ্জের ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত তিনি যোগদান করেননি।
আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার অবস্থাও একই। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম। অন্যদিকে, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর বদলি হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রকৌশলী ছাড়াই উপ-প্রকৌশলীর মাধ্যমে চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, গত কয়েকদিন আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এসেছিলেন। তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি দফতরগুলোর কোন কোন পদ শূন্য রয়েছে, তার তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ উপজেলায় পদায়ন করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি যোগদান করবেন।
একটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা না থাকা প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য উদ্বেগজনক। এতে সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি ও সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিজস্ব দফতরের পাশাপাশি অন্য দফতরের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম কতটা গতিশীল থাকছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদগুলো শূন্য পড়ে থাকলেও তা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেই কেন? অন্য উপজেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে আর কত দিন চলবে আজমিরীগঞ্জের সরকারি দফতরগুলো? কবে নাগাদ এসব দফতরে নিয়মিত কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে?
সময়ের আলো/এনএন