প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। ছবি : সময়ের আলোনতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ও বিজয়নগর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে বিশাল পদযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট ৪টি ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ জনতা।
বিক্ষোভকারীরা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী মোড় এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও স্লোগান দেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। নতুন উপজেলার এই প্রস্তাবটি এতদিন গোপন রাখায় জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম রোমা, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ ৪ ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে তারা নতুন উপজেলার এই প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপি প্রদান ও আলোচনার পর জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ৪ ইউনিয়নের জনগণ নতুন উপজেলা গঠনের প্রতিবাদে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আমরা পুরো বিষয়টি এবং জনগণের মতামত সম্পর্কে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে দ্রুত অবগত করব। জেলা প্রশাসকের এই আশ্বাসের পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মুখ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে চলে যান।
এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নকে ভেঙে আখাউড়ার বরিশল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করে একটি নতুন উপজেলা গঠনের মূল পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছেন জেলা বিএনপি নেতা কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। তার এই পরিকল্পনার আলোকেই সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন উপজেলা নিরীক্ষণের জন্য একটি দাফতরিক পত্র পাঠিয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন বিষয়টি জনগণের কাছ থেকে গোপন রেখেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা অতীতেও সদর ও বিজয়নগর উপজেলার সাথে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও নিজ উপজেলার সাথেই থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যদি জোরপূর্বক সদর ও বিজয়নগর উপজেলাকে ভেঙে নতুন উপজেলা করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধসহ আরও কঠোর ও তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে জেলাকে অচল করে দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন