প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বহাল ও আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিনের বিক্ষোভ-সংঘাতের পর সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে হেমায়েতপুর, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জিরানী ও ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকেই কারখানাগুলোর প্রবেশপথে শ্রমিকদের সারিবদ্ধভাবে ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে সহিংসতা ও গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে ইতিমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল। তবে কোথা থেকে কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিক্ষোভ ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
গত রবি ও সোমবার (১ ও ২ নভেম্বর) আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাভার ও গাজীপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সারা দেশের ২ হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৬৭০টি বন্ধ ছিল। এতে ১৭ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ না করে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই দিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে নিরাপত্তা জোরদার করে দ্রুত কারখানা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সময়ের আলো/এসএকে