প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত যুদ্ধে কোনো পক্ষেরই লাভ হবে না। সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটাতে তেহরান আগ্রহী হলেও শত্রুপক্ষের মিথ্যা ও অন্যায্য দাবি মেনে নেবে না ইরান।
সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে সরকারকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্ত স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত মেনে নিলে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আলোচনা আবার শুরু করা সম্ভব। এ বিষয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি দুই দিনের একটি প্রস্তাবের কথা জানান। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পরদিন হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান।
তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, তেল রফতানিতে ছাড় পুনর্বহাল এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো। তবে সোমবার পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরপরই ইরানে আবার হামলা চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে চান ট্রাম্প।
সমেয়র আলো/এসএকে