বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। গ্রাফিক : সময়ের আলো একসময় বিয়ের ছবি তোলা মানেই ছিল বর-কনের কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ছবি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রুপ ফটো আর বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ধারণা। এখন বিয়ের ছবি মানে শুধু মুহূর্ত ধরে রাখা নয়, বরং একটি গল্প বলা। বর-কনের প্রথম দেখা, চোখের ভাষা, আবেগ, হাসি, আনন্দ, বিদায়ের অশ্রু থেকে শুরু করে বিয়ের প্রতিটি ছোট ছোট মুহূর্ত ক্যামেরায় বন্দি করাই আধুনিক ওয়েডিং ফটোগ্রাফির মূল আকর্ষণ। আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি।
প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু বিয়ের দিনের ছবি নয়, বিয়ের আগের প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট, গায়ে হলুদ, মেহেদি, বউভাত এবং বিয়ের পরের কাপল ফটোশুটও বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই বিয়ের আগে নিজেদের পছন্দের জায়গায় গিয়ে বিশেষ থিমে ছবি তুলছেন।
বর্তমানে ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে কয়েকটি ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্ডিড ফটোগ্রাফি, সিনেম্যাটিক ওয়েডিং ফিল্ম, ডকুমেন্টারি স্টাইল, ড্রোন ফটোগ্রাফি এবং ন্যাচারাল লাইট ফটোগ্রাফি। ক্যান্ডিড ফটোগ্রাফিতে বর-কনেকে নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলার পরিবর্তে স্বাভাবিক মুহূর্তগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে সিনেম্যাটিক ওয়েডিং ফিল্মে বিয়ের পুরো আয়োজনকে সিনেমার গল্পের মতো উপস্থাপন করা হয়।
এ ছাড়া বর-কনের ব্যক্তিগত পছন্দ, পরিচয়ের গল্প কিংবা বিশেষ কোনো স্মৃতিকে কেন্দ্র করে থিমভিত্তিক ফটোশুটও জনপ্রিয় হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের প্রবণতা এই আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ওয়েডিং ফটোগ্রাফার নীলেশ রনি বলেন, ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি শুধু ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার কাজ নয়। এখানে মানুষের আবেগ ও সম্পর্কের গল্প তুলে ধরতে হয়। প্রতিটি বিয়ের আয়োজন আলাদা, তাই প্রতিটি কাজেই নতুন কিছু করার সুযোগ থাকে।’
ওয়েডিং ফটোগ্রাফি দেখতে যতটা আকর্ষণীয়, বাস্তবে কাজটি ততটাই পরিশ্রমের। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। কখনো রাতভর অনুষ্ঠান কাভার করতে হয়, আবার কখনো একাধিক ভেন্যুতে ছুটতে হয়। ছবি তোলার পর সম্পাদনা, অ্যালবাম তৈরি এবং ভিডিও নির্মাণেও যথেষ্ট সময় দিতে হয়।
ওয়েডিং ফটোগ্রাফির খরচ নির্ভর করে আয়োজনের ধরন, ফটোগ্রাফারের অভিজ্ঞতা, টিমের সদস্যসংখ্যা এবং প্যাকেজের ওপর। সাধারণত এক দিনের ফটোগ্রাফি প্যাকেজের খরচ ১৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে খরচ ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট, সিনেম্যাটিক ভিডিও, ড্রোন শট, প্রিমিয়াম অ্যালবাম এবং একাধিক দিনের অনুষ্ঠান যুক্ত হলে খরচ আরও বাড়ে। তাই বুকিংয়ের আগে প্যাকেজে কী কী সেবা থাকছে, ছবি সরবরাহের সময় এবং অতিরিক্ত খরচের বিষয়গুলো জেনে নেওয়া জরুরি।
ফটোগ্রাফার শামা বলেন, এই পেশায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লায়েন্টের প্রত্যাশা পূরণ করা। প্রতিটি মানুষ তার বিয়ের স্মৃতিকে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করতে চান। তাই সময়, পরিকল্পনা ও কাজের মানের সঙ্গে কোনো আপস করার সুযোগ নেই।
বিয়ের আয়োজন শেষ হয়ে যায়, অতিথিরা ফিরে যান, কিন্তু ছবিতে ধরে রাখা মুহূর্তগুলো থেকে যায় আজীবন। আর সেই স্মৃতিকে জীবন্ত করে রাখার দায়িত্বই পালন করছেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফাররা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/মহু