শীতের আগমন যত্নে থাকুক ত্বক

তাসলিমা নীলু

ফিচার

শীতের হালকা আমেজ শুরু হতেই প্রকৃতিতে আসে পরিবর্তন। কমতে থাকে বাতাসের আর্দ্রতা, বাড়ে শুষ্কতা। এর প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বক, চুল,

2026-11-03T14:04:02+00:00
2026-11-03T14:10:01+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
ফিচার
শীতের আগমন যত্নে থাকুক ত্বক
তাসলিমা নীলু
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:০৪ পিএম  আপডেট: ০৩.১১.২০২৬ ২:১০ পিএম
ঋতু পরিবর্তনের শুরু থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা করা ভালো। গ্রাফিক : সময়ের আলো
শীতের হালকা আমেজ শুরু হতেই প্রকৃতিতে আসে পরিবর্তন। কমতে থাকে বাতাসের আর্দ্রতা, বাড়ে শুষ্কতা। এর প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বক, চুল, হাত ও পায়ের ওপর। মুখের ত্বক হয়ে ওঠে টানটান ও খসখসে, ঠোঁট ফাটতে শুরু করে, হাত-পায়ের চামড়ায় দেখা দেয় রুক্ষতা। চুলও হারায় স্বাভাবিক কোমলতা ও উজ্জ্বলতা। অনেকেই শীত পুরোপুরি আগমনের পর যত্ন নেওয়া শুরু করেন। অথচ ঋতু পরিবর্তনের শুরু থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা করলে এসব সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তাই শীতের প্রস্তুতি হোক ত্বক ও চুলের বাড়তি যত্নের মধ্য দিয়ে।

মুখের ত্বকের যত্ন

শীতের শুরুতে মুখের ত্বক সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও টানটান হয়ে পড়ে। কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা দেয় চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা চামড়া ওঠার সমস্যা। এ সময় ত্বক পরিষ্কারে অতিরিক্ত কড়া সাবান বা এমন ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত নয়, যা ত্বকের স্বাভাবিক তেল দূর করে দেয়। এর পরিবর্তে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো। মুখ ধোয়ার সময় অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে স্বাভাবিক বা হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। মুখ ধোয়ার পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়। শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিমজাতীয় এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া যেতে পারে। শীতের রোদ কোমল মনে হলেও অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।

ঠোঁট থাকুক কোমল

শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ঠোঁট দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। ফলে ঠোঁট ফেটে যায়, চামড়া ওঠে, কখনো রক্তপাতও হতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে নিয়মিত লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে বাইরে যাওয়ার আগে এবং রাতে ঘুমানোর সময় ঠোঁটে লিপবাম লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঠোঁটের শুষ্ক চামড়া টেনে তোলা কিংবা বারবার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে শুষ্কতা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।


চুলের যত্নে চাই নিয়মিত পরিচর্যা

শীতের শুরুতে চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, আগা ফেটে যাওয়া ও জট বাঁধার সমস্যা বাড়তে পারে। শুষ্ক বাতাস, অতিরিক্ত গরম পানি এবং অনিয়মিত পরিচর্যা চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। এ সময় চুলের ধরন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। প্রতিদিন শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই। 

মাথার ত্বক কতটা তৈলাক্ত হয় এবং চুল কতটা ময়লা হয়, তার ওপর ভিত্তি করে শ্যাম্পু করার বিরতি ঠিক করা উচিত। শ্যাম্পুর পর চুলের মাঝখান থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে রুক্ষতা কমে এবং জট ছাড়ানো সহজ হয়। সপ্তাহে এক থেকে দুদিন চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত তেল বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মাথার ত্বকে খুশকি বা চুলকানি থাকলে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই ভালো।

চুল ধোয়ার সময় অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুন। ভেজা চুল জোরে ঘষে মোছা বা জোরে আঁচড়ানো উচিত নয়। নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে পানি শুষে নিতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার ও কার্লারের অতিরিক্ত ব্যবহারও কমাতে হবে। চুলের সুস্থতায় খাবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, শাকসবজি ও ফল রাখুন। অস্বাভাবিক চুল পড়া বা মাথার ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হাতের ত্বকে বাড়তি মনোযোগ

শীতের শুরুতেই হাতের ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, ডিটারজেন্টের সংস্পর্শ এবং ঠান্ডা বাতাস এ সমস্যার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে আঙুলের গিঁট ও নখের চারপাশের ত্বকে শুষ্কতা বেশি দেখা যায়। হাত ধোয়ার জন্য মৃদু সাবান ও কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। প্রতিবার হাত ধোয়ার পর ভালোভাবে মুছে হ্যান্ড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। গ্লিসারিন, পেট্রোলাটাম ও সিরামাইডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার শুষ্ক হাতের যত্নে উপকারী। রাতে ঘুমানোর আগে হাতে একটু ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। বাসন ধোয়া বা ঘর পরিষ্কারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন। নখের চারপাশের চামড়া টেনে তোলা থেকে বিরত থাকুন এবং নিয়মিত নখের গোড়ায় ময়েশ্চারাইজার লাগান।


পায়ের যত্নেও অবহেলা নয়

শীতকালে পায়ের গোড়ালি শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। অনেক সময় পায়ের ত্বক শক্ত ও খসখসে হয়ে যায়। এ সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন পা পরিষ্কার করে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি। এরপর গোড়ালি ও শুষ্ক অংশে ঘন ময়েশ্চারাইজার, পেট্রোলিয়াম জেলি বা ফুট ক্রিম লাগাতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ক্রিম লাগিয়ে পরিষ্কার সুতির মোজা পরে নেওয়া যেতে পারে। গোড়ালিতে শক্ত চামড়া জমলে হালকা ভেজা অবস্থায় নরম ফুট ফাইল দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করা যায়। তবে ব্লেড দিয়ে শক্ত চামড়া কাটার চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে ক্ষত ও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। আরামদায়ক জুতা ও মোজা ব্যবহার করতে হবে। দীর্ঘক্ষণ ভেজা মোজা পরে থাকা ঠিক নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পায়ের যত্নে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। পায়ে ক্ষত, ফাটল বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

খাবার ও জীবনযাপনে চাই ভারসাম্য

শুধু বাইরে থেকে পরিচর্যা করলেই ত্বক ও চুলের সব সমস্যা দূর হয় না। শরীরের ভেতরের পুষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ডিম, মাছ, বাদামসহ পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চাও ত্বক ও চুলের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে তার উপাদান সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং, বারবার এক্সফোলিয়েশন এবং সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে।

শীতের আগমনে ত্বক ও চুলের যত্নে প্রয়োজন নিয়মিত কিছু অভ্যাস। মুখে ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন, চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের সঠিক ব্যবহার, হাত-পায়ে নিয়মিত ক্রিম লাগানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন- এসব ছোট ছোট অভ্যাসই শীতের শুষ্কতা মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। মনে রাখতে হবে, সবার ত্বক ও চুলের ধরন এক নয়। তাই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যার পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর কোনো সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিজে নিজে নানা প্রসাধনী ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

আগেভাগে যত্ন শুরু করলে শীতজুড়েই ত্বক ও চুল থাকবে সুস্থ, কোমল ও প্রাণবন্ত।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/মহু

  বিষয়:   শীত  ত্বক  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: