শীত মানেই যেন নতুন রূপে গায়ে রঙ-বেরঙের পোশাক জড়ানো। ছবি : সংগৃহীত বছর ঘুরে আবারও শীতের মৌসুম আসন্ন। সময় এসেছে আলমারিতে তুলে রাখা শীতের পোশাক, লেপকাঁথা বের করার। শীত মানেই যেন নতুন রূপে গায়ে রঙ-বেরঙের পোশাক জড়ানো। সেসব পোশাক শীতকালজুড়ে শুধু আটপৌরে হিসেবেই ব্যবহৃত হয় না, তা ফ্যাশন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া লেপ, কম্বল, স্কার্ফ, মাফলার, টুপি ও আরও বিভিন্ন জিনিস শীতকালে ব্যবহার করা হয়। শীতের পোশাক কিংবা যেকোনো অনুষঙ্গ ব্যবহারের আগে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। না হলে তা ত্বকের ক্ষতিসাধন করতে পারে।
শীতের অনুষঙ্গগুলো যেহেতু সারা বছর ব্যবহার করা হয় না, বছরের অনেকটা সময় তা আলমারি কিংবা সিন্দুকে তুলে রাখা হয়। শীত মৌসুমে তা বের করা হলে, আগে ভালোভাবে রোদে দিতে হবে। রোদে দিলে তার গায়ে লেগে থাকা জীবাণু দূর হবে। পুরো শীতের মৌসুমেই বারবার রোদে দিন। এতে তার ব্যবহার আরও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
কোনো পোশাক বা লেপকাঁথা যদি মেরামত করার প্রয়োজন হয়, তা আগে মেরামত করে তারপর ব্যবহার করতে হবে।
পোশাকের গায়ে কোনো দাগ লাগলে, তা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। সাধারণত ঘামযুক্ত পোশাক আবদ্ধ স্থানে রেখে দিলে কিংবা পোশাকে পারফিউম ব্যবহার করলে তাতে দাগ পড়ে যায়।
কোনো পোশাক বা যেকোনো অনুষঙ্গ ছিড়ে গেলে, তা ভালোভাবে সেলাই করে নিতে হবে।
পোশাক কিংবা লেপ-কম্বলে ধুলো জমলে তা ভালোভাবে ঝেড়েমুছে, ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। শীত মৌসুমে প্রকৃতি শুষ্ক থাকার দরুন ধুলো থাকে বেশি। ফলে এ সময়ে যাদের ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তা আরও বেড়ে যায়। তাই অবশ্যই ধুলো পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে।
শুধু রোদে দিলেই সবকিছু ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে না। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু অনুষঙ্গ ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। উলের তৈরি পোশাক ড্রাই ওয়াশ করাই উত্তম। এতে উলের ক্ষতি হয় না। যদি হাতে পরিষ্কার করতে চান, তা হলে অল্প গরম পানি ব্যবহার করবেন, কড়া কোনো ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন না, জোরে জোরে কাঁচবেন না, আলতো করে যত্নের সঙ্গে ধুতে হবে। এ ছাড়া শ্যাম্পু কিংবা ভিনেগার দিয়েও পরিষ্কার করা যেতে পারে।
উলের তৈরি যেকোনো জিনিসই রোদে, বিশেষ করে কড়া রোদে শুকানো থেকে বিরত থাকুন। রোদে পোশাকের উজ্জ্বলতা নষ্ট করে। তাই ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে হবে।
একটা ব্যাপার মনে রাখা জরুরি, শীতকালে ব্যবহৃত পোশাক, লেপ কিংবা কম্বল কোনোটাই ঘন ঘন ধোয়া উচিত নয়। বারবার ধুলে তা তাড়াতাড়ি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়।
লেদারের তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে লেদার পলিশ ও লেদার ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে। এতে দীর্ঘদিন আবদ্ধ থাকার দরুন পোশাকে তৈরি হওয়া গন্ধ দূর করা যায় এবং ফেটে যাওয়া থেকে রক্ষা করা যায়। লেদারের তৈরি পোশাক ব্যবহারের আগে ও পরে সব সময় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখবেন, ভাজ করে রাখলে তা ফেটে যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার দরুন জিপারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মোম বা তেল দিয়ে ঘষে নিতে পারেন। তা হলেই আবার আগের মতো সচল হয়ে যাবে। জিপারের জন্য এটা খুবই কার্যকর।
সময়ের আলো/মহু