সজনে তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ছবি : সংগৃহীত শীত এলেই ত্বক ও চুলের নানা সমস্যা দেখা দেয়। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক ও রুক্ষ, মাথার ত্বকেও দেখা দিতে পারে খুশকি। এসব সমস্যা সামলাতে নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারেও আগ্রহ বাড়ে। এমনই একটি উপাদান সজনে বীজ থেকে তৈরি তেল, যা মরিঙ্গা অয়েল নামে পরিচিত। ত্বক ও চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এই তেল কীভাবে সহায়তা করতে পারে, জেনে নেওয়া যাক।
সজনে গাছের পাতা, ফুল ও ডাঁটা আমাদের পরিচিত খাবার। তবে শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, রূপচর্চার উপাদান হিসেবেও গাছটির ব্যবহার বাড়ছে। সজনে বীজ থেকে তৈরি তেলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এসব উপাদান ত্বক ও চুলের যত্নে ভূমিকা রাখতে পারে।
সজনে গাছের বিভিন্ন অংশে ভিটামিন এ, সি ও ইসহ নানা পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তবে, তেলের পুষ্টি উপাদান ও কার্যকারিতা নির্ভর করে তা কীভাবে তৈরি ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে, তার ওপর।
ত্বকের যত্নে সজনে তেলের উপকারিতা
সজনে তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত ও পরিমিত ব্যবহারে ত্বক নরম ও মসৃণ থাকতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে ত্বকের শুষ্কতা ও খসখসে ভাব কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।
সজনে তেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বককে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে, ত্বকের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে, বলিরেখা বা বয়সের ছাপ দূর করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সজনে তেলের কিছু উপাদানের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ কারণে ত্বকের হালকা শুষ্কতা বা অস্বস্তি প্রশমনে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা সংক্রমণের চিকিৎসা হিসেবে এই তেলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
চুলের যত্নে মরিঙ্গা অয়েল
ত্বকের পাশাপাশি চুলের পরিচর্যাতেও সজনে তেল ব্যবহার করা হয়। তেলের ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের শুষ্কতা কমিয়ে নরম ও মসৃণ রাখতে সহায়তা করতে পারে। মাথার ত্বকে শুষ্কতা থাকলে অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহার করলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।
শীতকালে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে হালকা হাতে তেল মালিশ করতে পারেন। তবে, চুল পড়া বন্ধ করা বা খুশকি দূর করার ক্ষেত্রে সজনে তেলের কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ব্যবহারের আগে সতর্কতা
প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সজনে তেল সবার ত্বকে একইভাবে মানানসই নাও হতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প তেল লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করা ভালো। জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
মুখ পরিষ্কার করার পর অল্প পরিমাণ মরিঙ্গা অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী এর ওপর ময়েশ্চারাইজার লাগানো যায়। চাইলে অন্য উপযোগী তেলের সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে, ব্রণপ্রবণ বা সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা জরুরি।
শীতকালে ত্বক ও চুলের যত্নে সজনে তেল একটি বিকল্প উপাদান হতে পারে। তবে সুস্থ ত্বক ও চুলের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া
সময়ের আলো/মহু