অন্যের জীবন বাঁচাতে কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে অবদান রাখতে মরণোত্তর অঙ্গ ও দেহদান করতে পারেন। ছবি : সংগৃহীত মানুষের মৃত্যুর পরও অন্যের জীবন বাঁচাতে কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। নিজের শরীরের পুরোটা অথবা নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে যেতে পারেন যে কেউ। দান করা এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন পেতে পারেন অসুস্থ মানুষ। অন্যদিকে, মরণোত্তর দান করা দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে মরণোত্তর অঙ্গ ও দেহদান করতে চাইলে এ বিষয়ে আগে থেকেই কিছু নিয়ম, প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে রাখা জরুরি।
কী কী অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গ দান করা যায়?
মানবদেহের প্রায় পুরো অংশই দান করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি, লিভার, প্যাংক্রিয়াস, অস্থি ও অস্থিমজ্জা। এ ছাড়া চোখ বা কর্নিয়া, হাড়, ত্বক, হার্ট ভালভ, রক্তনালি, নার্ভ ও টেন্ডনও দান করা যায়।
যেসব রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়, তাদের শরীরে দান করা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, পুরো দেহ দান করা হলে তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণায় কাজে লাগে।
কীভাবে দান করা যায়?
বাংলাদেশে জীবিত অবস্থায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে দাতার বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। জীবিত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ১৮ বছরের বেশি এবং ৬৫ বছরের বেশি না হলে নির্দিষ্ট শর্তে অঙ্গ দান করতে পারেন।
জীবিত অবস্থায় কিডনি বা লিভারের মতো অঙ্গ কেবল নিকটাত্মীয়কে দান করার সুযোগ রয়েছে। তবে চোখ, চামড়া ও টিস্যুর ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্যদিকে, ক্যানসার, হেপাটাইটিস, এইডস কিংবা কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
মরণোত্তর দেহদান ইচ্ছুক হলে যা করতে হবে
মৃত্যুর পর নিজের পুরো দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে দান করতে চাইলে বাংলাদেশের যেকোনো মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালের অধ্যক্ষ কিংবা পরিচালকের বরাবর আবেদন করতে হয়।
আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে স্ট্যাম্প পেপারে হলফনামা, দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট আকারের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। এ ছাড়া, পরিবারের দুজন সদস্যকে সাক্ষী হিসেবে সম্মতি দিতে হয়।
দাতার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে মরদেহ সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালে পৌঁছে দিতে হবে। এ সময় মৃত্যুসনদের কপিও প্রয়োজন হয়।
মৃত্যুর পর দান করা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। সময়মতো সংরক্ষণ ও প্রতিস্থাপন করা না গেলে অঙ্গগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে।
মৃত্যুর পর হৃদপিণ্ড ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে, ফুসফুস ৪ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে, লিভার ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে, প্যাংক্রিয়াস ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং কিডনি ২৪ থেকে ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিস্থাপন করতে হয়। অন্যদিকে, চোখ বা কর্নিয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিস্থাপন করতে হয়।
সূত্র : বিবিসি
সময়ের আলো/মহু