বিশ্বের সবচেয়ে শীতল ১০ শহর

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বাংলাদেশে শীত একটি আরামদায়ক ও কাঙ্খিত ঋতু হলেও পৃথিবীতে এমন কিছু শহর আছে, যেখানে বছরের বড় একটি সময় তাপমাত্রা শূন্য

2026-10-29T19:14:36+00:00
2026-10-29T19:30:21+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
বিশ্বের সবচেয়ে শীতল ১০ শহর
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম  আপডেট: ২৯.১০.২০২৬ ৭:৩০ পিএম
বিশ্বের সবচেয়ে শীতল ১০ শহর। গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশে শীত একটি আরামদায়ক ও কাঙ্খিত ঋতু হলেও পৃথিবীতে এমন কিছু শহর আছে, যেখানে বছরের বড় একটি সময় তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির অনেক নিচে থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও এসব শহরের মানুষ নিজেদের জীবনযাত্রাকে মানিয়ে নিয়েছেন প্রকৃতির সঙ্গে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের এমন ১০টি শহরের কথা, যেখানে শীতের তীব্রতা মানুষের জীবনধারাকেই বদলে দিয়েছে।


ইয়াকুতস্ক, রাশিয়া

রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত ইয়াকুতস্ক বিশ্বের সবচেয়ে শীতল বড় শহরগুলোর একটি। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। জানুয়ারিতে তীব্র ঠান্ডার কারণে বাইরে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ শহরের নির্মাণকাজেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। মাটির নিচে দীর্ঘ সময় বরফ জমে থাকায় অনেক ভবন বিশেষ নকশায় নির্মাণ করা হয়। পোশাক, খাবার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম- সবকিছুতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের শীতের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়।


নোরিলস্ক, রাশিয়া

সাইবেরিয়ার নোরিলস্ক শুধু তীব্র শীতের জন্য নয়, দীর্ঘ অন্ধকার ও কঠিন আবহাওয়ার জন্যও পরিচিত। শীতকালে এখানে তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। বছরের দীর্ঘ সময় বরফে ঢাকা থাকে শহরের রাস্তাঘাট, আকাশও থাকে ধূসর। প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও নোরিলস্কের শিল্পকারখানা ও খনিশিল্প সচল থাকে। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় শীতের প্রভাব থাকলেও কাজকর্ম থেমে থাকে না। প্রকৃতির কঠোরতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখানকার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।


উলানবাটর, মঙ্গোলিয়া

মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটর বিশ্বের শীতলতম রাজধানী শহর হিসেবে পরিচিত। শীতকালে এখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও নিচে নেমে যেতে পারে। শহরটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং শীতল মহাদেশীয় আবহাওয়া এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। তীব্র ঠান্ডা মোকাবিলায় এখানকার বাসিন্দারা ভারী শীতের পোশাক ও ঘর গরম রাখার বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। আধুনিক নগরজীবনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জীবনধারার প্রভাবও রয়েছে এ শহরে। রাজধানী হলেও উলানবাটরের শীত অন্য অনেক শহরের তুলনায় বেশ কঠিন।


ইয়েলোনাইফ, কানাডা

কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইয়েলোনাইফে শীত দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র। শীতের সময় তাপমাত্রা মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নেমে যেতে পারে। বরফে ঢেকে যায় শহরের চারপাশ, জমে যায় হ্রদের পানি। তবে, ইয়েলোনাইফের শীতের রয়েছে অন্যরকম আকর্ষণ। পরিষ্কার আকাশে মেরুজ্যোতি বা নর্দার্ন লাইটস দেখার সুযোগ পর্যটকদের কাছে শহরটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। বরফে ঢাকা প্রকৃতি ও হিমশীতল পরিবেশের মধ্যেও এখানকার মানুষের জীবন সচল থাকে।


উটকিয়াগোভিক, আলাস্কা

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত উটকিয়াগোভিক আর্কটিক অঞ্চলের অন্যতম শীতল শহর। শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে। এখানকার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো না পাওয়া। শীতকালে কয়েক সপ্তাহ ধরে সূর্য দিগন্তের ওপরে ওঠে না। এ সময়কে বলা হয় পোলার নাইট। সীমিত দিনের আলো, বরফ ও তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের জীবনযাত্রা বজায় রাখেন।


ফেয়ারব্যাঙ্কস, আলাস্কা

আলাস্কার অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে অবস্থিত ফেয়ারব্যাঙ্কসে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। দীর্ঘ শীতের কারণে শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আবহাওয়ার প্রভাব বেশ স্পষ্ট। তবে, এখানকার বাসিন্দারা শীতকে শুধু দুর্ভোগ হিসেবে দেখেন না; শীতকালীন খেলাধুলা, বরফের উৎসব এবং নর্দার্ন লাইটস দেখার আকর্ষণে শহরটি প্রাণবন্ত থাকে। প্রকৃতির কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বিনোদন ও পর্যটনের নানা আয়োজন ফেয়ারব্যাঙ্কসকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।


হারবিন, চীন

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হারবিন শহর শীতের তীব্রতার পাশাপাশি বরফের উৎসবের জন্যও বিখ্যাত। এখানে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে। তবু, এ সময় শহরজুড়ে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। হারবিনের অন্যতম আকর্ষণ আন্তর্জাতিক বরফ ও তুষার উৎসব। বিশাল বরফের ভাস্কর্য, রঙিন আলোয় সাজানো বরফের স্থাপনা এবং শীতকালীন আয়োজন শহরটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এখানে শীত শুধু সহ্য করার বিষয় নয়, বরং উদযাপনেরও উপলক্ষ।


আস্তানা, কাজাখস্তান

কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত প্রান্তরের মধ্যে অবস্থিত। ফলে, শীতকালে সাইবেরীয় শীতল বাতাসের প্রভাব শহরটিতে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এ সময় তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে। আধুনিক স্থাপত্য, প্রশস্ত সড়ক ও সুউচ্চ ভবনে সাজানো শহরটিও শীতের সময় বরফে ঢেকে যায়। তীব্র ঠান্ডা মোকাবিলা করে এখানকার বাসিন্দারা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালিয়ে যান। 


ইন্টারন্যাশনাল ফলস, যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ফলস দেশটির শীতল শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। শীতকালে তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। দীর্ঘ সময় বরফ ও হিমশীতল আবহাওয়ার মধ্যে থাকতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। শহরটির মানুষের জীবনযাত্রা শীতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তীব্র ঠান্ডার জন্য পরিচিত হওয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ফলসকে অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের শীতলতম শহরগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 


ট্রমসো, নরওয়ে

নরওয়ের আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত ট্রমসো ‘আর্কটিকের রাজধানী’ নামে পরিচিত। অন্য কয়েকটি শহরের তুলনায় এখানে শীতের তাপমাত্রা কিছুটা কম তীব্র হলেও হিমশীতল বাতাসের কারণে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হতে পারে। শীতকালে তাপমাত্রা সাধারণত মাইনাস ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে।

বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সূর্য দিগন্তের ওপরে ওঠে না। এ সময়কে বলা হয় পোলার নাইট। মেরুজ্যোতি, শীতকালীন পর্যটন এবং সমুদ্রকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার জন্য ট্রমসো বিশেষভাবে পরিচিত। দীর্ঘ অন্ধকার ও ঠান্ডার মধ্যেও শহরটি পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকে।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   শীত  শীতল  শহর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: