পোশাক ও সাজসজ্জায় সামান্য সচেতনতা আনলেই নিজেকে উপস্থাপন করা যায় স্মার্ট ও প্রাণবন্তভাবে। মডেল : জয়া আহসান। ছবি : সংগৃহীত
বয়স ৩৫ বা ৪০? চিন্তার কারণ নেই। পোশাক ও সাজসজ্জায় সামান্য সচেতনতা আনলেই এই বয়সেও নিজেকে উপস্থাপন করা যায় স্মার্ট ও প্রাণবন্তভাবে। পোশাকের ভুল নির্বাচন কিংবা অতিরিক্ত সাজসজ্জা আপনাকে বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখাতে পারে। তাই চল্লিশের পরও আভিজাত্য ও তারুণ্যের ছাপ ধরে রাখতে পোশাক, রং ও সাজের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
পোশাক হোক সঠিক মাপের
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢিলেঢালা বা পুরোনো ধাঁচের পোশাক বেছে নেওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যে দেখা যায়। তবে বয়সের কারণে বড় মাপের পোশাক পরতে হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং শরীরের গড়নের সঙ্গে মানানসই পোশাক ব্যক্তিত্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। শরীর কিছুটা ভারী হলেও পছন্দের পোশাক পরতে দ্বিধা করার প্রয়োজন নেই। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন। শাড়ির ক্ষেত্রে সরু বর্ডারের সিল্কের শাড়ি বেছে নিতে পারেন। এর সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ আপনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। ব্যাকলেস বা ডিপকাট ব্লাউজও পছন্দ অনুযায়ী পরা যেতে পারে।
সাজসজ্জায় থাকুক পরিমিতি
স্মার্ট দেখাতে পোশাকের পাশাপাশি সাজসজ্জার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তবে, একসঙ্গে অনেক অনুষঙ্গ ব্যবহার না করাই ভালো। যেমন- জ্যাকেট, স্কার্ফ, সানগ্লাস, নেকলেস ও ঝোলা দুল একসঙ্গে পরলে সাজে ভারী ভাব চলে আসতে পারে। শীত কিংবা গরম- দুই মৌসুমেই অনেকে পোশাকের সঙ্গে স্কার্ফ ব্যবহার করেন। তবে, গলায় গোল করে স্কার্ফ জড়ালে গলার স্বাভাবিক গড়ন আড়াল হয়ে যেতে পারে। স্কার্ফ পরতে চাইলে পোশাকের সঙ্গে মানানসইভাবে ব্যবহার করুন। এর সঙ্গে অতিরিক্ত জ্যাকেট বা ভারী গয়না এড়িয়ে চললে সাজে ভারসাম্য থাকবে।
জয়া আহসান। ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বাস নির্বাচনে সতর্কতা
বাহ্যিক পোশাকের পাশাপাশি সঠিক মাপের অন্তর্বাস নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের গড়নের সঙ্গে মানানসই অন্তর্বাস পোশাকের ফিটিং ও সামগ্রিক উপস্থাপনায় প্রভাব ফেলে। তাই খুব ঢিলেঢালা কিংবা অতিরিক্ত আঁটসাঁট অন্তর্বাসের বদলে আরামদায়ক ও সঠিক মাপের অন্তর্বাস বেছে নেওয়া উচিত।
অনেকের ধারণা, সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের পোশাক পরলেই স্মার্ট লুক পাওয়া যায়। কিন্তু সব রং সবার ত্বকের সঙ্গে সমানভাবে মানানসই হয় না। অতিরিক্ত সাদা, ধূসর বা বেইজ রং কারও কারও ত্বকের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিতে পারে। আবার বয়স কম দেখানোর আশায় অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং বেছে নেওয়াও সব সময় ভালো সিদ্ধান্ত নয়। একরঙা বা নিউট্রাল রঙের পোশাক পরিমিত ও পরিশীলিত লুক তৈরি করতে পারে। তাই নিজের ত্বকের রং, ব্যক্তিত্ব এবং পোশাকের ধরন বিবেচনা করে রং নির্বাচন করুন।
রূপটানে থাকুক আভিজাত্য
চল্লিশের পর সাজগোজের ক্ষেত্রে পরিমিতিকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো। পোশাকের সঙ্গে মানানসই হালকা গয়না ও স্বাভাবিক রূপটান ব্যক্তিত্বকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। অতিরিক্ত মেকআপ কিংবা একসঙ্গে অনেক গয়না পরলে সাজের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ম্লান হতে পারে। তাই নিজের পছন্দ, পোশাকের ধরন ও উপলক্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজসজ্জা বেছে নিন।
বয়স বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু নিজের যত্ন নেওয়া ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। সঠিক পোশাক, মানানসই রং এবং পরিমিত সাজসজ্জার সমন্বয়ে চল্লিশেও নিজেকে উপস্থাপন করা যায় তারুণ্যদীপ্ত ও আভিজাত্যপূর্ণভাবে।