প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর পোল্যান্ডের ওয়ারশর শোপিন বিমানবন্দরে অবতরণ করে কোপেনহেগেন থেকে আসা এসএএসের একটি বিমান। ছবি : রয়টার্স ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অন্তত চারটি যাত্রীবাহী বিমানে বোমা হামলার হুমকি ঘিরে আতঙ্ক ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এসব হুমকির পর কয়েকটি বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। এ ঘটনায় পোল্যান্ডের একটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়। তবে তল্লাশিতে কোনো বিমানে বিস্ফোরক বা বোমার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডন থেকে ওয়ারশগামী পোল্যান্ডের লট এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের নির্ধারিত গন্তব্য ছিল ওয়ারশর শোপিন বিমানবন্দর। বোমার হুমকি পাওয়ার পর বিমানটিকে কাছাকাছি মডলিন বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। পরে বিমানটিতে তল্লাশি চালাতে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে কোনো বিস্ফোরক না পাওয়ায় আবারও বিমানবন্দরটি চালু করা হয়।
একই দিনে কোপেনহেগেন থেকে ওয়ারশগামী স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনসের (এসএএস) আরেকটি ফ্লাইটেও বোমার হুমকি আসে। তবে বিমানটি নির্ধারিত সময়েই ওয়ারশর শোপিন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে, বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় ইসরায়েল থেকে আসা একটি বিমানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। ই-মেইলের মাধ্যমে এ হুমকি পাওয়ার পর বিমানটি অবতরণ করে। বুলগেরিয়ার বার্তা সংস্থা বিটিএ দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব লুবোমির নিকোলভের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিমানটিতে সম্ভাব্য বিস্ফোরক শনাক্তে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট তল্লাশি চালাচ্ছিল।
এর আগের দিন সোমবার লন্ডন থেকে সোফিয়াগামী উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইটেও বোমা হামলার হুমকি আসে। পরে বিমানটিকে হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান হাঙ্গেরির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোমুলুস রুসিন-সেনদি।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মুরসিয়া বিমানবন্দরের একটি অংশ ঘিরে রাখে কর্তৃপক্ষ। ম্যানচেস্টার থেকে আসা রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে পরে হুমকিটিকে ভুয়া বলে নিশ্চিত করা হয়। বিমানে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিস্ফোরক না পাওয়ায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবারের একটি ঘটনা এবং মঙ্গলবারের অন্তত চারটি ফ্লাইটে বোমার হুমকির ঘটনায় ইউরোপের কয়েকটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনায় বিস্ফোরক ডিভাইসের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়নি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ