প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে উপাচার্যকে বের করল ছাত্রদল। সংগৃহীত ছবিজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (আইসিএলসি) পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জেরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এতে ভবনের ভেতরে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা আটকা পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে তাদের বাইরে নিয়ে আসেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ইনস্টিটিউটের ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
গতকাল সোমবার জারি করা এক অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের পর থেকেই ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এ নিয়োগকে বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান। অন্যদিকে, মোহাম্মদ কামরুল হক হামীমকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আজ বিকেল চারটার দিকে ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দেন। ওই সময় নতুন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে সিন্ডিকেট সভা চলছিল। সভা শেষ করে উপাচার্য বাইরে আসতে গিয়ে দেখেন, ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপস্থিত হন। সেখানে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তালা ভেঙে উপাচার্যসহ ভেতরে আটকে পড়া অন্যদের বাইরে নিয়ে আসেন।
ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেখানে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগ থেকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা এ নিয়োগ বাতিল করে নিজেদের ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছিলেন। তাদের দাবি, উপাচার্য তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে ছাত্রদলকে ডেকে এনে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছেন।
তবে ভবনের তালা ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারা। সংগঠনটির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা তালা ভাঙিনি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’
এ বিষয়ে উপাচার্য নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে বা প্রয়োজন হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।’
উপাচার্য আরও বলেন, যারা তালা দিয়েছেন, এর পেছনে যেসব শিক্ষক রয়েছেন এবং যারা এতে ইন্ধন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ