মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা : অপতথ্য, বাস্তবতা ও জনআস্থার প্রশ্ন’ শীর্ষক সেমিনারে। সংগৃহীত ছবি মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, অপতথ্য ও নেতিবাচক জনধারণা দূর করতে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা এবং গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে মাদরাসা শিক্ষার ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি গুণগত মানোন্নয়ন ও সময়োপযোগী সংস্কারেও গুরুত্ব দিতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর কাটাবন মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্য মেসেজ একাডেমি অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা : অপতথ্য, বাস্তবতা ও জনআস্থার প্রশ্ন’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশ।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক শায়খ এইচ এম রবিউল হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ড. জাকারিয়া নূর, খতিব ও সাংবাদিক শায়খ আলী হাসান তৈয়ব এবং ক্যারিয়ার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি আফজাল হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্য অতিরঞ্জিত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
অন্যান্য বক্তা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যেকোনো আলোচনা ও মূল্যায়ন হতে হবে তথ্য, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা বিচ্ছিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা সমীচীন নয়।
তাঁরা মাদরাসা শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো, সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং এ শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক অর্জনগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষার উন্নয়ন, গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার এবং গবেষণাভিত্তিক জনমত গঠনে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশের অন্যতম সদস্য লুৎফুর রহমান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-উলামা, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে রাবেতাতুল উলামা বাংলাদেশের অন্যতম উদ্যোক্তা মুফতি মাহমুদুল হাসান হাশেমী অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ