দুই কক্ষেই জেতার পথে ডেমোক্র্যাট, চাপে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে জয় পেয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি

2026-11-04T11:55:02+00:00
2026-11-04T11:55:02+00:00
 
  বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
দুই কক্ষেই জেতার পথে ডেমোক্র্যাট, চাপে ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম 
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবন। ছবি : সিএনএন
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে জয় পেয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তদন্তের সুযোগ বাড়বে দলটির।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পেছনে ফেলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি সময়ে তার ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সিনেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফল তখনো ঘোষণা না হলেও, দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রায় দুই বছর আগে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এই প্রথম কংগ্রেসে ট্রাম্পের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানসাস, টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে সিনেট আসন জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলটির। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চারটি আসনে নিট ব্যবধান বাড়ানোর পাশাপাশি মিশিগান ও মিনেসোটার আসন ধরে রাখাও জরুরি।

নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়জুড়েই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপে ছিল রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেও সফল হননি দলটির প্রার্থীরা। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এমন পরিস্থিতিতে সমর্থকদের কাছে তিনি এমনভাবে ভোট চেয়েছিলেন, যেন নিজেই নির্বাচনে প্রার্থী।

ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে একাধিক আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সহজে জিতেছিল, এমন কিছু আসনেও এবার পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ইনডিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ জার্সি ও পেনসিলভেনিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আসন বাড়িয়েছে দলটি। এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২৪৮ হতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা পেতে পারে ১৮৭টি আসন।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের প্রভাবে আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। ওয়াশিংটনে বিভক্ত সরকারব্যবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে আসেন। এতে ডলারের দর কমে যায়। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা বাড়ে।


সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোর মধ্যে টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমি টেলারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারানোর পথে রয়েছেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই জয় নিশ্চিত হলে প্রায় তিন দশকের মধ্যে রাজ্যটিতে রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয়ী প্রথম ডেমোক্র্যাট হবেন তিনি।

ডিসিশন ডেসক এইচকিউর পূর্বাভাস অনুযায়ী, কানসাসে জয় পেতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। সেটি হলে ১৯৩২ সালের পর প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে সিনেট আসন পাবে দলটি। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল নিজ রাজ্যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। তাঁর প্রচারণায় পরিচালিত চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসী বিলিং’ পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়েও ভোটারদের অসন্তোষের মুখে পড়েন তিনি। শুল্ক আরোপের পক্ষে অবস্থান ছিল মার্শালের।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার রিপাবলিকান মাইকেল ওয়াটলিকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। জর্জিয়ার সিনেটর জন ওসফ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের ক্রিস পাপাসও নিজ নিজ আসনে জয় পেতে যাচ্ছেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে মিশিগান ও মিনেসোটার আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে।

প্রতিনিধি পরিষদের নতুন নিয়ন্ত্রণ আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে রিপাবলিকানদের সমর্থন নিয়ে ট্রাম্পের আইন পাস করানোর সুযোগ কমে যাবে। তবে হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের হাতেই থাকছে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেকোনো আইনে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে। তিনি সেই ক্ষমতা ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছেন। ফলে নতুন আইনের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা কঠিন হতে পারে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ বাড়বে। ট্রাম্পের পরিবার এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও তদন্ত করতে পারবেন তারা। এ ক্ষেত্রে সমন জারি করার ক্ষমতার পাশাপাশি অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর এখতিয়ারও থাকবে দলটির হাতে।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে তিনি ‘মিস্টার ভেটো’ উপাধি গ্রহণ করতেও পিছপা হবেন না। 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   ট্রাম্প  ডেমোক্র্যাট  কংগ্রেস 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: