মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ছবি : আল-জাজিরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্বীকার করে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি সিনেটেও জয় পেয়েছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের খবর জানিয়েছে।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ডেমোক্র্যাটরা ভালো করেছে। সত্যিই তাই। তারা ভালো করেছে। তারা কঠোর লড়াই করেছে।’ নির্বাচনের সময় মানুষের মধ্যে একধরনের মনোভাব তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য নিজেকে দায়ী মনে করা উচিত নয় বলেও জানান ট্রাম্প।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান। তবে একই সঙ্গে মানুষ ইরানের বিষয়ে আমি যা করেছি, তার গুরুত্বও বুঝতে পেরেছে।’
ট্রাম্পের মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির স্বল্পমেয়াদি প্রভাব মেনে নিতে ভোটাররা সম্ভবত প্রস্তুত ছিলেন না। তবে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকেও দায়ী করেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের বিরোধী নেতাদের নিয়মিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোয় এই পরাজয়ের দায় ফক্স নিউজেরও রয়েছে। নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওকে সম্প্রচারে আনার সমালোচনা করে তাকে শহরটির ইতিহাসের ‘সবচেয়ে খারাপ মেয়র’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘আমেরিকা ভালো আছে।’ আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা সারা দেশে রিপাবলিকানদের আসন পুনর্বিন্যাসের কৌশলকে পরাজিত করেছি।’
সিনেট নির্বাচনে মেইন অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন। কলিন্স পরাজয় স্বীকার করার পর সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জ্যাকসন। তিনি বলেন, প্রচারের সময় বিভিন্ন জনসভায় মানুষ তাঁকে নিজেদের কষ্টের কথা জানিয়েছেন। কেউ ওষুধের খরচ কমাতে অর্ধেক করে ওষুধ খাওয়ার কথা বলেছেন, আবার কেউ বাড়ির গরম রাখার বিল মেটাতে গিয়ে অন্য কোন খরচ বাদ দেবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জ্যাকসন বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করার ক্ষমতা ভোটাররা তাকে দিয়েছেন। সেই ক্ষমতা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানোই তাঁর দায়িত্ব।
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৭তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিনিধি পরিষদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রো খান্না। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত তিনি। ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন খান্না। ইরান যুদ্ধেও নতুন করে সামরিক অর্থায়ন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
টেক্সাসে সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। তার এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিন দশকের বেশি সময় পর রাজ্যটিতে সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। অস্টিনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘টেক্সাসের মানুষই ছিল আমার গুলতি। আর আজ রাতে আমরা গোলিয়াথকে পরাজিত করেছি।’
নির্বাচনে টালারিকোর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন। ট্রাম্প প্যাক্সটনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনের পরিবর্তে প্যাক্সটনকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি আলোচনায় আসে। এই নির্বাচনে প্রচারে ব্যয় অর্ধশত কোটি ডলার ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়েছে। এর বড় অংশ এসেছে ধনকুবের ইলন মাস্কের কাছ থেকে। প্যাক্সটনের পক্ষে অন্তত ২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন তিনি।
টালারিকো বলেন, ধর্মগ্রন্থ ও নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে, সব সময় পিছিয়ে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর আস্থা রাখতে হয়। বিরোধীরা মরিয়া হয়ে অনৈতিক কৌশল নিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তারা আশা ও বিশ্বাস হারাননি বলে জানান এই ডেমোক্র্যাট নেতা।
নির্বাচনী প্রচারে টালারিকোর বিরুদ্ধে ‘উগ্রপন্থী’ এবং টেক্সাসের উপযোগী নন— এমন প্রচার চালানো হয়েছিল। ইলন মাস্ক ও কেন প্যাক্সটনের পক্ষ থেকে তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার মতো রাজ্য বানানোর চেষ্টা করবেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। তবে টালারিকো প্রচারে বিভাজন ও বিদ্বেষের রাজনীতির বিপরীতে ভালোবাসার বার্তা তুলে ধরেন।
তার বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণকারী ধনকুবেররা মানুষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপমান ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে লাভবান হন। এই বিভাজন বন্ধ করতে চান তিনি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ