প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩২ পিএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ২:৩৩ পিএম
ইউক্রেনের দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাল রাশিয়া । ছবি : সংগৃহীত শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। এবার দেশটির কিয়েভ ও ঝিতোমির অঞ্চলের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে মস্কো। এ ছাড়া ওদেসা উপকূলের কাছে সমুদ্রে থাকা একটি পণ্যবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, কিয়েভ ও ঝিতোমির ছাড়াও পোলতাভা, দিনিপ্রো, কিরোভোহরাদ ও রিভনে অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
এদিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপদ্বীপটির বাইরে একটি দুর্ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মস্কোর নিয়োগ দেওয়া এক কর্মকর্তা। তবে দুর্ঘটনাটির কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে, ক্রিমিয়ার কাছাকাছি রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্রাসনোদারের কাছে ড্রোন হামলায় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোনের একটি পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহকেন্দ্রে আগুন লাগে।
এসব হামলার ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি চলছে। আগামী সপ্তাহে আলোচনাটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত মাসে ক্রেমলিনের এক উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার বিষয়ে মস্কোর অবস্থান নির্ভর করতে পারে রাশিয়ার জাতীয় ঐক্য দিবসে ইউক্রেন বড় ধরনের হামলা চালায় কি না, তার ওপর। রাশিয়ায় প্রতিবছর ৪ নভেম্বর সরকারি ছুটি হিসেবে দিবসটি পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সময়ের আলো/এসকে