আটটি অত্যাধুনিক পিস্তল প্রদর্শন। ছবি : সংগৃহীতচট্টগ্রামের রাউজানে এক যুবকের আটটি অত্যাধুনিক পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মামলার আসামি ওই যুবকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ২১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাউজান এলাকার বাদশার ছেলে হৃদয় ওরফে বুলেটকে আটটি পিস্তল প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তার বাড়ি উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীবউল্লাহ পাড়া এলাকায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি টেবিলের ওপর আটটি বিদেশি অত্যাধুনিক পিস্তল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছ কোথায়? প্রস্তুত থাক। নোয়াপাড়ায় তোদের অস্তিত্ব উল্টে ফেলবো। তোদের জন্য টাকা দিয়ে এনেছি মরণের টিকিট।’ এ সময় পিস্তলগুলোর ওপর আঙুল নাড়তেও দেখা যায় তাকে।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘মনে রেখো, সময় থাকতে ভালো হয়ে যাও। সময় থাকতে তোরা ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। তোদের অবস্থা খুব খারাপ করে ফেলবো বলে দিলাম। আমি তুফান।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অস্ত্রগুলোর মালিকানা, কোথা থেকে সেগুলো আনা হয়েছে এবং কোথায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে বুলেট হৃদয় হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ভিডিওটি কবে এবং কীভাবে ছড়ানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিওটি তারা দেখেছেন। কীভাবে অস্ত্রগুলো প্রদর্শন করা হয়েছে এবং কারা সেগুলো এনেছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি বাদশার ছেলে হৃদয় ওরফে বুলেট। প্রাথমিকভাবে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। কয়েকবার কারাভোগও করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হৃদয় ওরফে বুলেট রাউজান উপজেলার পরিচিত এক সন্ত্রাসী। পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীবউল্লাহ পাড়ায় তার বাড়ি হলেও বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়ি পাহাড়তলী ইউনিয়নের খানপাড়া গ্রামে থাকেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত রাউজানে প্রায়ই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে উপজেলাটিতে অন্তত ২৭ জন খুন হয়েছেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বেশির ভাগই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধী চক্রের অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও নতুন করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
সময়ের আলো/জোই