প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ পিএম আপডেট: ০৫.১১.২০২৬ ৬:১৮ পিএম
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। ছবি : সংগৃহীত চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানা এলাকায় আট বছরের শিশু সোহাগ হত্যা মামলায় যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১ এর বিচারক নিষ্কৃতি হাগিদক এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত যুবক মো. ইমন হোসেন (২৮)। ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ পশ্চিমপাড়া রব চৌকিদার মাঝির বাড়ির আব্দুল করিমের ছেলে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বলেন, পতেঙ্গা এলাকার শিশু সোহাগ হত্যা মামলায় ইমন হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় মোট ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলা নথির তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ দুপুরে পতেঙ্গার পূর্ব হোসেনপাড়ার খালপাড় এলাকায় খুনের ঘটনা ঘটে। ওই সময় খেলছিল আট বছর বয়সী শিশু সোহাগ। এলাকার পরিচিত রিকশাচালক ইমন হোসেন তাকে বরই খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে চেয়ারম্যান গলির একটি পরিত্যক্ত ভাড়া ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ৫০ টাকা দিয়ে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন। এতে সোহাগ খামচি দিয়ে বাধা দেয় এবং চিৎকার দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এতে বাইরে জানাজানির ভয়ে সোহাগকে ইট দিয়ে মাথা ও কপালে উপর্যুপরি আঘাত করে ইমন। মারধরের আঘাতে ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যায় সোহাগের মরদেহ হোসেন পাড়ার পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার করে। এসময় মরদেহের পাশে রক্তমাখা ইটও পাওয়া যায়। পরে পাঁচ বছর বয়সী আরেক শিশুর দেওয়া তথ্যে পুলিশ ইমনকে শনাক্ত করে। পুলিশ পূর্ব হোসেন আহমদ পাড়ার খাল পাড় এলাকার আজিমের কলোনির বাসা থেকে ইমন হোসেনকে গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় সোহাগের বাবা রিকশাচালক মো. ফারুক হোসেন ভূঁইয়া নগরের পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বৃহস্পতিবার প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করা হলো।
সময়ের আলো/এনএন