তাহসিফ হত্যা মামলায় বন্ধু দীপ ফের রিমান্ডে । ছবি : সংগৃহীতবিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুই দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নৌ-পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
এসময়, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন বাতিলের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপ বাসা থেকে তাহসিফকে ফোন করে ডেকে নেন। পরে দীপ, তাহসিফ ও মামলার অপর আসামি এক তরুণী একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে যান। এরপর তারা কয়েক দফায় উত্তরার বিভিন্ন স্থানে খাবার খান। একপর্যায়ে স্থানীয় নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়ে বিয়ার পান করেন। পরে ওই তরুণী বাসায় চলে গেলে দীপ ও তাহসিফ রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। ওই এলাকায় গিয়ে তারা তুরাগ নদীর পাশের একটি মাঠের দিকে যান। সেখানে কয়েকজন লোককে দেখে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন। তবে এরপর কী ঘটেছিল এবং তাহসিফ কীভাবে হত্যার শিকার হন, সে বিষয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।
আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং অনেক বিষয়ে নীরব থেকেছেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ ও কললিস্টের তথ্যের সঙ্গে তার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। হত্যার কারণ, পরিকল্পনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ও হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারের বিষয়েও তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
তদন্ত কর্মকর্তা মনে করছেন, হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে কোনো পরিকল্পনাকারী বা সহযোগী ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ মামলায় প্রথম দফায় দীপকে চারদিন এবং দ্বিতীয় দফায় তিনদিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে আটক করে পিবিআই। পরদিন ৩০ অক্টোবর দীপকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ধাওয়াকারীদের দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল। তাদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেন দীপ। আর দীপ নিজে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
পিবিআই তার বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতি যাচাই করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে দীপকেও নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ৩০ অক্টোবর সকালে তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে তাহসিফকে তার জুনিয়র বন্ধু দীপ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এ মামলায় দীপকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
এর আগে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহসিফ রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন। ওই দিন দিবাগত রাতে মাকে মুঠোফোনে বার্তা (ভয়েস মেসেজ) পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন, বাসায় ফিরছেন; কিন্তু আর ফেরেননি। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
সময়ের আলো/এসকে