প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
সংগৃহীত ছবিজীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি ও সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাঁচটি শ্রমিক ইউনিয়ন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুধু রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন প্রায় এক লাখ মানুষ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও পর্যাপ্ত সম্পদের অভাবের অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে এতে যোগ দেন শ্রমিকরা। কয়েক বছর আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকরাও এতে শামিল হয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা সুরক্ষিত রাখা। বর্তমানে ফ্রান্সে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১২ দশমিক ৩১ ইউরো। তবে সিএফডিটি ইউনিয়নের প্রধান মেরিলিস লিওঁর দাবি, শুধু ন্যূনতম মজুরি বাড়ালেই হবে না, মাসিক নিট বেতনও ১০০ ইউরো বাড়াতে হবে।
বিক্ষোভ ও ধর্মঘট ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে সরকার। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেনদার্ম মোতায়েন করা হচ্ছে। সহিংসতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। দেশজুড়ে ২৫০টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে স্কুল, হাসপাতাল ও গণপরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ৮১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। ধর্মঘটের কারণে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। তেল শোধনাগারের কর্মীদেরও উৎপাদন বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের কর্মবিরতির কারণে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সকে নিজস্ব উৎপাদনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতে পারে।
এদিকে প্যারিসে বিক্ষোভের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রস্তাবিত মিছিলের পথ পরিবর্তন করেছে কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে সহিংসতা, দুই হাজারের বেশি দোকান লুট এবং ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পুনরুজ্জীবিত ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমর্থকরা শুক্র ও শনিবারও অবরোধ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। ফলে কয়েক দিন ধরে ফ্রান্সজুড়ে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ