ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট তেল আবিবে তার দলের নির্বাচনী কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাচনের বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর ইসরায়েলি পতাকা হাতে উল্লাস করছেন। ছবি : রয়টার্স ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের লড়াইয়ে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দেশটির দুটি আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তাদের এই ঘোষণার পর ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে ৬৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে আইজেনকোটের। এতে প্রধানমন্ত্রী পদে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর টিকে থাকার অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট বৃহস্পতিবার জানায়, গত সপ্তাহের নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের জন্য তারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আইজেনকোটের নাম সুপারিশ করবে। এর আগে দিনের শুরুতে আটটি আসন পাওয়া ইউনাইটেড আরব লিস্ট—রামও তার প্রতি সমর্থন জানায়।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক জোটগুলো পার্লামেন্টের ১২০ আসনের মধ্যে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনে তাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাবেক সামরিক প্রধান আইজেনকোট মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির নেতা। আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন তার পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই সমর্থনের বিষয়ে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতায় ফেরা থেকে ঠেকানো এবং তাকে সরানোর প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আরব নাগরিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো যথেষ্ট জোরালো অবস্থান নিতে পারেনি— এমন উদ্বেগও রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার রাতে এ আলোচনা শুরু করেন তিনি। দলীয় নেতাদের উদ্দেশে হারজগ বলেন, নতুন নির্বাচন এড়াতে চাইলে সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব হবে না— এ বিষয়টি তাদের মাথায় রাখতে হবে।
আরও পড়ুন
নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী বলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সাবেক এক মিত্রের নেতৃত্বাধীন চতুর্থ গোষ্ঠী সমর্থন জানিয়েছে আইজেনকোটকে।
বৃহস্পতিবার আরও আটটি দলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল। আলোচনার শেষ দিকে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসবেন প্রেসিডেন্ট।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোটের কোনো জোটই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি এবং তাদের কট্টর ডানপন্থি ও অতি-ধর্মীয় ইহুদি মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টি এবং তার জোটের অন্য তিনটি ইহুদি বিরোধী দল মিলিয়ে পেয়েছে ৪৮টি আসন।
এদিকে, নির্বাচনের আগে এক আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পর বুধবার ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আরব-ইসরায়েলি জোট ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ অভিযোগ তুলেছে। গত সপ্তাহের নির্বাচনে আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের উপস্থিতি ছিল রেকর্ডসংখ্যক।
নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগও জোরালো করেছেন নেতানিয়াহু। এক ভিডিওবার্তায় ইসরায়েলি পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে—এমন গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। ভিডিওতে তার পেছনে ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’ লেখা স্লোগানও দেখা যায়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ