ইরান যুদ্ধে মার্কিন সরকারের অর্থায়ন বন্ধে কংগ্রেসকে আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালিতে আগুনে পুড়েছে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি টাগবোট। অন্যদিকে কাতার

2026-11-05T23:29:45+00:00
2026-11-05T23:29:45+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সরকারের অর্থায়ন বন্ধে কংগ্রেসকে আহ্বান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। হরমুজ প্রণালিতে আগুনে পুড়েছে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি টাগবোট। অন্যদিকে কাতার উপকূলে অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরেকটি ট্যাঙ্কার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার হুমকি। সব মিলিয়ে অঞ্চলজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পৃথক বিবৃতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। কাতার উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার দুটি অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অনুমোদনহীন জলপথ ব্যবহার করে পারাপারের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি টাগবোটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, কাতার উপকূলে অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের (ড্রোন অথবা ক্ষেপণাস্ত্র) আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কারটির ক্রুদের বর্তমান অবস্থা এবং জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিরসনে কাতার যখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, ঠিক তখনই নতুন এই হামলার খবর এলো। এর আগে গত মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবগুলো উভয় পক্ষই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি সংলাপের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গত রোববার কাতারের রাষ্ট্রীয় এলএনজি পরিবহন সংস্থা নাকিলাত এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৩০ অক্টোবর পারস্য উপসাগর অতিক্রম করার সময় তাদের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ওই ঘটনায় কোনো ক্রু আহত হননি এবং পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আঘাতের গভীরতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করা হলেও জাহাজটি বর্তমানে নিরাপদ ও সচল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের অনুমোদনহীন জলপথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি টাগবোটে আগুন লাগে। বাহিনীটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রণালির দক্ষিণ অংশের একটি পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় একটি ট্যাঙ্কার মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়। অন্যদিকে হরমুজের পূর্বাঞ্চল দিয়ে বের হওয়ার সময় একটি সুপারট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। ওই আগুন নেভাতে এবং সহায়তা করতে কাছে এগিয়ে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী টাগবোটও পরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরান যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধে কংগ্রেসকে আহ্বান

এদিকে ইরান যুদ্ধে মার্কিন সরকারের অর্থায়ন বন্ধ করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্য ক্রিস ভ্যান হোলেন। তার অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বেআইনিভাবে ও নিজের ইচ্ছামতো যুদ্ধ পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রশাসন গোপন করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

বুধবার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ভ্যান হোলেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হতাহতের প্রকৃত তথ্য আড়াল করার অভিযোগের মধ্যেই ট্রাম্প ইরানে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। আগামী মাসে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভ্যান হোলেন বলেন, কংগ্রেসের উচিত ইরান যুদ্ধের জন্য অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করা।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ (বিমানবাহী রণতরীকেন্দ্রিক নৌবহর) এবং অতিরিক্ত মেরিন কোরের জাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নভেম্বরের শুরুর দিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানা গেছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে আরও প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারে। সংবাদপত্রটির উদ্ধৃত কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এসব যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, মেরিন সেনা ও নাবিকের নভেম্বরের শেষ নাগাদ সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ৪ নভেম্বরেই ইরানে ফের সামরিক অভিযান শুরু করবে মার্কিন বাহিনী। তবে নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন, ইরানে নতুন করে অভিযান পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   ইরান যুদ্ধ  মার্কিন সরকার  অর্থায়ন  কংগ্রেস  আহ্বান 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: