খেজুরের রস ঘিরে গাছিদের ব্যস্ততা

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

শীতের আগমনী বার্তা প্রকৃতিতে। আর শীত মানেই খেজুরের রসের মিষ্টি স্বাদ। সেই স্বাদ উপভোগের অপেক্ষায় দিন গুনছেন দেওয়ানগঞ্জের রসপ্রেমীরা। অন্যদিকে

2026-11-06T22:43:28+00:00
2026-11-06T22:43:28+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
খেজুরের রস ঘিরে গাছিদের ব্যস্ততা
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম 
গাছ পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। ছবি : সংগৃহীত
শীতের আগমনী বার্তা প্রকৃতিতে। আর শীত মানেই খেজুরের রসের মিষ্টি স্বাদ। সেই স্বাদ উপভোগের অপেক্ষায় দিন গুনছেন দেওয়ানগঞ্জের রসপ্রেমীরা। অন্যদিকে শীত মৌসুমকে সামনে রেখে উপজেলার জিল বাংলা সুগার মিলস এলাকায় অবস্থিত একমাত্র খেজুরবাগানে গাছ পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে খেজুরের রস সংগ্রহের পালা।

খেজুরবাগানটি জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের সম্পত্তি। মিলস কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর বাগানটি ইজারা দিয়ে থাকে। স্থানীয় গাছিরা ইজারা নিয়ে বাগানের পরিচর্যা ও রস সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যবসা করেন। একসময় বাগানটিতে ৬০টিরও বেশি খেজুরগাছ ছিল। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে গাছের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০টিতে। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বাগানটি স্থানীয় মানুষের খেজুরের রসের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং পুরোনো গাছের বয়স বেড়ে যাওয়ায় বাগানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এ বছর বাগানটি ইজারা নিয়েছেন অত্র এলাকার গাছি মো. মুজিবর। তার ভাষ্য, চলতি বছর বাগানের ইজারামূল্য ৩৫ হাজার টাকা। পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি। মৌসুমজুড়ে একটি গাছ থেকে তিন দিন পরপর ৮ থেকে ১০ কেজি রস সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। সে হিসেবে, ৪০টি গাছ থেকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার লিটার রস পাওয়া যাবে। সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকবে বলেও আশা করেন।

অন্য গাছিদের মতে, বাগানের গাছগুলোর বয়স হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১২ বছর পর গাছগুলো বয়সের কারণে মারা যেতে পারে। তখন দেওয়ানগঞ্জে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য অন্য উপজেলা কিংবা জেলার ওপর নির্ভর করতে হবে। তাই বাগানের যেসব স্থানে গাছ মারা গেছে, সেসব জায়গাসহ নতুন করে খেজুরগাছ লাগানো প্রয়োজন।

রসের চাহিদা ও বিক্রি মূল্য সম্পর্কে গাছি আব্দুল মমিন, রবিনসহ কয়েকজন বলেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমে এ বাগানের রসের চাহিদা থাকে বেশ। এই বাগানের রসের স্বাদ নিতে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, অপেক্ষায় থাকেন আশপাশের এলাকার রসপ্রেমীরাও। ২০২৫ সালে প্রতি লিটার খেজুরের রস ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ বছর পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি লিটার রসের দাম ১৪০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, শীতের সকালে খেজুরের রসের স্বাদ ধরে রাখতে প্রয়োজন নতুন গাছ রোপণ ও বাগানের যথাযথ পরিচর্যা। তা না হলে হারিয়ে যাবে দেওয়ানগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই খেজুরবাগান।

সময়ের আলো/এনএন

  বিষয়:   খেজুরের রস  গাছিদের ব্যস্ততা  দেওয়ানগঞ্জ  জামালপুর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: