মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর। ছবি : সংগৃহীতফিলিস্তিনের পক্ষে তহবিল সংগ্রহের কনসার্ট আয়োজন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় অ্যারেনার বাধার মুখে পড়েছেন মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর। তার অভিযোগ, কনসার্টগুলো ফিলিস্তিনের সহায়তায় আয়োজন করা হচ্ছে জানার পর ভেন্যুগুলো আগে দেওয়া সময়সূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে গ্র্যামিজয়ী এই শিল্পী জানান, ডাবলিন, প্যারিস ও লন্ডনে সফল কনসার্টের পর যুক্তরাষ্ট্রেও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ শিরোনামে তহবিল সংগ্রহের কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
ম্যাকলমোর বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি বড় অ্যারেনা তাদের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। ভেন্যুগুলো হলো—ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, প্রুডেনশিয়াল সেন্টার, বার্কলেস সেন্টার, ইউবিএস অ্যারেনা, ইনটুইট ডোম, কিয়া ফোরাম, ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনা, চেজ সেন্টার ও ক্লাইমেট প্লেজ অ্যারেনা।
তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব ভেন্যু থেকে বছরের শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ পেয়েছিলেন তারা। কিন্তু কনসার্টগুলো ফিলিস্তিনের সহায়তায় আয়োজন করা হবে—এ কথা জানার পরই সেই সুযোগগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ম্যাকলমোরের ভাষায়, ‘দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।’ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতজগতে কাজ করলেও এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি বলে জানান তিনি।
বিবৃতিতে বিনোদনশিল্পের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা শিল্পীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টার অভিযোগ করেন এই র্যাপার। তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি লেখেন, ‘আমরা এমন একটি দেশে বাস করি, যে দেশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গর্ব করে।’ ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কেন শিল্পীরা কোন বিষয়ে সমর্থন জানাতে পারবেন, তা নির্ধারণ করবেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বর দমনে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাধা দেওয়ারও সমালোচনা করেন ম্যাকলমোর। এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা আরও আগে প্রকাশ্যে না বলায় অনুশোচনাও প্রকাশ করেন তিনি।
ইউরোপে সফরের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে ম্যাকলমোর জানান, ডাবলিন, প্যারিস ও লন্ডনে তার তিনটি কনসার্টই দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল। এসব আয়োজনে কয়েক হাজার মানুষ এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে থাকা ৪০ জনের বেশি শিল্পী ও বক্তা অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাধার মুখে পড়লেও তহবিল সংগ্রহের কনসার্ট চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও এসব আয়োজন করা হতে পারে।
ম্যাকলমোর বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি আগের মতোই অটুট রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিজেরাই নিজেদের মঞ্চ তৈরি করব।’
সময়ের আলো/জেডি