যে দেশে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় বাড়ির দরজা

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

ভাবুন তো, এমন একটা দেশে ঘুরতে গেলেন, যে দেশ এতটাই নিরাপদ যে সেখানে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ঘোরার জন্য

2026-11-08T12:09:20+00:00
2026-11-08T12:13:22+00:00
 
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ফিচার
যে দেশে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় বাড়ির দরজা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম  আপডেট: ০৮.১১.২০২৬ ১২:১৩ পিএম
কিউবার বাড়িগুলোই পর্যটকদের আবাসিক হোটেল। গ্রাফিক : সময়ের আলো
ভাবুন তো, এমন একটা দেশে ঘুরতে গেলেন, যে দেশ এতটাই নিরাপদ যে সেখানে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে ঘোরার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পর্যটকরা ইচ্ছেখুশিমতো যখন তখন যেখানে খুশি ঘুরতে পারেন। যে দেশে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় বাড়ির দরজা, অর্থাৎ বাড়িগুলোই পর্যটকদের আবাসিক হোটেল। হ্যাঁ, বলছিলাম ক্যারিবীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র ও চে গুয়েভারার জন্মভূমি কিউবার কথা।


কিউবার সরকারি নাম ‘রিপাবলিক অব কিউবা’। দেশটি আশেপাশের অনেকগুলো ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। কিউবা একটি কমিউনিস্ট দেশ। সেখানে একই বাসায় ডাক্তার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী বসবাস করেন। সমাজে যেন শ্রেণিবৈষম্য তৈরি না হয়, তাই সরকারই নির্ধারণ করে দেন কোন বাসায় কে কে থাকবে এবং তাদের মাসিক উপার্জনও প্রায় কাছাকাছি। কিউবার হাসপাতালগুলোতে প্রতিটি পেশেন্ট একই ধরনের সেবা পেয়ে থাকেন। কোনো বৈষম্যের সুযোগ নেই। এমনকি রোগীপ্রতি ডাক্তারের সংখ্যা বিশ্বের যে দুটো দেশে সবচেয়ে বেশি, তার একটি হচ্ছে এই কিউবা।

সেখানে অনুমতি ব্যতীত গাছ কাটা নিষেধ। যদি কেউ বিনা অনুমতিতে গাছ কাটে, পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। এই কঠোর নিয়মের জন্যেই কিউবা এখনো সবুজ শ্যামল একটি দেশ। কিউবার কৃষিব্যবস্থাও আদিম। চাষাবাদে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা হয় না, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি কোনো রাসায়নিক সারও ব্যবহার করা হয় না।


কিউবার ভূমি খুব উর্বর। সেখানে আখ ও তামাকের প্রচুর ফলন হয়। এই ফলনের জন্যেই দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ ভালো। এছাড়া, কিউবা বনজ সম্পদেও সমৃদ্ধ। দেশটিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে বিধায় সেখানে সংস্কৃতিরও অনেক বৈচিত্র দেখা যায়।


উর্বর ভূমি ও খনিজ সম্পদের জন্য স্পেন এবং যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে ব্যবহার করতে চেয়েছে বিভিন্ন সময়। এমনকি কিউবা টানা ৪০০ বছর স্পেনের অধীনে ছিল। পরবর্তীতে উনিশ শতকের মধ্যভাগে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় কিউবা স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে, কিউবার সরকারি ভাষা স্প্যানিশ এবং দেশটির বেশিরভাগ মানুষ স্প্যানিশ ভাষাতেই কথা বলে। পর্যটনের সঙ্গে জড়িত থাকার দরুণ অনেকে ইংরেজি ভাষাও ব্যবহার করে থাকে।


ক্যারীবিয় দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হলো হাভানা, যা কিউবার রাজধানী। এটিই প্রধান বাণিজ্যিক শহর ও সমুদ্রবন্দর। হাভানায় রয়েছে কয়েক’শ বছরের পুরোনো বাড়িঘর, ভিনটেজ গাড়ি এবং খোয়া বিছানো রাস্তা। তাই হাভানায় গেলে পুরোনো দিনে হারিয়ে যেতে হয়।

কিউবায় প্রতি বছর অনেক পর্যটক ঘুরতে যান, কিন্তু সেখানে কোনো আবাসিক হোটেল নেই। অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ারই কথা। আসলে কিউবার প্রতিটি বাড়িই এক একটা হোটেল। সরকারিভাবে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে যে, প্রতিটি বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিউবার নাগরিকরা সেখান থেকে বাড়তি রোজগার করার সুযোগ পান।

এই সুন্দর দেশে এখনো যাওয়া হয়নি? না গেলে সত্যিই মিস করবেন!

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   কিউবা  ভ্রমণ  পর্যটক  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: