জটিল রোগের চিকিৎসায় স্টেম সেল থেকে জিন থেরাপি

এম মামুন হোসেন চীন থেকে ফিরে

ফিচার

স্ত্রীর ব্লাড ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য একের পর এক পথ খুঁজেছেন রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা আব্দুল্লাহ হাসান নাসিফ (রবিন)।

2026-11-08T04:28:09+00:00
2026-11-08T04:28:09+00:00
 
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ফিচার
গুয়াংজুর ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল
জটিল রোগের চিকিৎসায় স্টেম সেল থেকে জিন থেরাপি
এম মামুন হোসেন চীন থেকে ফিরে
প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
স্ত্রীর ব্লাড ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য একের পর এক পথ খুঁজেছেন রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা আব্দুল্লাহ হাসান নাসিফ (রবিন)। ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্ত্রী রেহনুমা তারান্নুম স্নিগ্ধার মাল্টিপল মায়েলোমা শনাক্ত হওয়ার পর কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরে চীনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করেন। সেখানেও খরচ কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বেছে নেন চীনের গুয়াংজু ফার্স্ট পিপলস সরকারি হাসপাতাল।

বোনম্যারো বা স্টেম সেল প্রতিস্থাপনসহ সামগ্রিক চিকিৎসার প্যাকেজে তার প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। দীর্ঘ চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি কাটেনি অনিশ্চয়তা। চিকিৎসায় স্নিগ্ধার শরীর কতটা সাড়া দিয়েছে, তা মূল্যায়ন করছেন চিকিৎসকরা। এ রকম জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বিশেষায়িত অবকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার সমন্বয় ঘটিয়েছে গুয়াংজু ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল। ১২৭ বছরের পুরোনো এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রক্তরোগ, ক্যানসার, স্টেম সেল প্রতিস্থাপন, কোষভিত্তিক চিকিৎসা এবং জিন থেরাপি নিয়ে চিকিৎসা ও গবেষণা চলছে।

সম্প্রতি চীনের গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংজু শহরের নানশা ক্যাম্পাসে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাপ্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগ, চিকিৎসা অবকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য গড়ে তোলা সেবাব্যবস্থা ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানেই স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন অ্যান্ড সেলুলার থেরাপি ইউনিটের সামনে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আব্দুল্লাহ হাসান নাসিফ কথা বলেন। 

চীনে তার স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেন। দেশে ক্যানসারের এরপর উন্নত চিকিৎসার অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরেন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে চীনের এগিয়ে যাওয়া বাস্তবে তিনি দেখছেন বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ থেকে চীনে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভাষা ও খাদ্যাভাসের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের আন্তরিকতায় তারা মুগ্ধ। তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীরা রোগী এবং স্বজনদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করেন। 

চিকিৎসার পাশাপাশি থাকার জায়গা খোঁজা, বাজার করা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার মতো দৈনন্দিন কাজেও সহযোগিতা পাওয়া যায়। মুসলিম রোগী ও স্বজনদের জন্য আলাদাভাবে খাবার রান্নার ব্যবস্থাও রয়েছে।

১২৭ বছরের ঐতিহ্য, তিন ক্যাম্পাসে চিকিৎসাসেবা : ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গুয়াংজু ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল চীনের গুয়াংডং প্রদেশের পুরোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। দীর্ঘ চিকিৎসা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষণার সমন্বয়ে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতালটির তিনটি ক্যাম্পাসে মোট শয্যাসংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯৭০। বছরে প্রায় ৩০ লাখ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখানে স্টেট কাউন্সিলের বিশেষ সরকারি ভাতা পাওয়া ১০ জন বিশেষজ্ঞ এবং এক হাজারেরও বেশি জ্যেষ্ঠ পেশাজীবী রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৮৩ জন আমন্ত্রিত গবেষকের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।


রক্তরোগের চিকিৎসায় বিশেষ সক্ষমতা : হাসপাতালটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হেমাটোলজি। অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, অ্যাকিউট লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ও মাল্টিপল মায়েলোমার মতো জটিল রক্তরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয় এখানে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে বছরে প্রায় ৩০০টি হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট (এইচএসসিটি) করা হয়। এ চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ট্রান্সপ্লান্ট ওয়ার্ডে গ্রেড-১০০ ল্যামিনার-ফ্লো সুবিধাসম্পন্ন ৩০টি কক্ষ রয়েছে। এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রোগীকে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের পর রোগীর রোগপ্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালটির বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকিউট লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় রোগীর বয়স ও ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় পৃথক চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। মাঝারি ও উচ্চঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর রোগমুক্ত থাকার হার ৭০ শতাংশেরও বেশি বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে মাল্টিপল মায়েলোমার চিকিৎসার ফল নির্ভর করে রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগের পর্যায়, জটিলতা এবং চিকিৎসায় সাড়ার ওপর।

স্টেম সেল থেকে কার-টি ও জিন থেরাপি : প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি কোষভিত্তিক চিকিৎসা ও জিন থেরাপি নিয়ে কাজ করছে হাসপাতালটি। মাল্টিপল মায়েলোমার চিকিৎসায় কার-টি (ঈঅজ-ঞ) সেল থেরাপির সুবিধা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কার-টি থেরাপি হলো এক ধরনের কোষভিত্তিক চিকিৎসা। এতে রোগীর শরীর থেকে টি-সেল সংগ্রহ করে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও আক্রমণের উপযোগী করা হয়। পরে পরিবর্তিত কোষ রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। নির্দিষ্ট ধরনের রক্তের ক্যানসারে এ চিকিৎসাপদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এটি সব রোগীর জন্য উপযুক্ত নয় এবং চিকিৎসার আগে রোগীর অবস্থা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রয়োজন। থ্যালাসেমিয়া ও গশে (এধঁপযবৎ উরংবধংব) রোগের মতো বিরল রোগের চিকিৎসায় জিন থেরাপি নিয়েও গবেষণা ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে হাসপাতালটি। পাশাপাশি রক্তরোগের চিকিৎসায় কোষ ও জিন থেরাপির ক্লিনিক্যাল গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মাল্টিপল মায়েলোমার চিকিৎসায় বোনম্যারো বা স্টেম সেল প্রতিস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হলেই রোগী পুরোপুরি ক্যানসারমুক্ত হয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। চিকিৎসার পর রোগীর শরীরে ক্যানসারের অবশিষ্ট উপস্থিতি, চিকিৎসায় সাড়া এবং সম্ভাব্য জটিলতা নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হয়।

পিইটি-সিটি ও ৩ টেসলা এমআরআই : রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পরিকল্পনায় আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে হাসপাতালটিতে। নানশা স্বাস্থ্য পরীক্ষাকেন্দ্রে রয়েছে পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি-কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (পিইটি-সিটি) এবং ৩ টেসলা ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই)। পিইটি-সিটি পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে কোষের বিপাকীয় কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ক্যানসার শনাক্তকরণ, রোগের বিস্তার নির্ণয় এবং চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া মূল্যায়নে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ৩ টেসলা এমআরআইয়ের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুর বিস্তারিত চিত্র পাওয়া সম্ভব।

পুনর্বাসনে আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা : অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনায় পুনর্বাসন চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে হাসপাতালটি। এখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, চলাচলের সীমাবদ্ধতা কমানো এবং দৈনন্দিন কাজে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা বা ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন (টিসিএম) বিভাগ। সেখানে আকুপাংচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের ধারণা দেওয়া হয়। ব্যথা ব্যবস্থাপনা এবং স্নায়ু ও রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যায় পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও এসব পদ্ধতি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গ্রেটার বে এরিয়ায় আন্তর্জাতিক চিকিৎসার লক্ষ্য : চীনের বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চল বা গ্রেটার বে এরিয়ায় আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় হাসপাতালটি। হংকং ও ম্যাকাওকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ অঞ্চলে চিকিৎসা, গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘গ্রেটার বে এরিয়া ড্রাগস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস পাস’ নীতির আওতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগানোর তথ্য  জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কোষ ও জিন থেরাপির ক্লিনিক্যাল গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ চিকিৎসাপদ্ধতির প্রয়োগেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক চেংজুয়ান ঝাং বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলকে জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে হেমাটোলজি বা রক্তরোগ, জেরিয়াট্রিকস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও ইউরোলজিসহ জাতীয় পর্যায়ের চারটি বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রাদেশিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সংখ্যা ২১।

হাসপাতালটি গুয়াংজু মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রথম অধিভুক্ত এবং সাউথ চায়না ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির দ্বিতীয় অধিভুক্ত হাসপাতাল হিসেবেও চিকিৎসা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে চীনের জাতীয় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন থেকে ১৫৯টি গবেষণা অনুদান পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সভাপতি প্রতীক ইজাজ ও সাধারণ সম্পাদ মুজাহিদ শুভ বলেন, ১২৭ বছরের পুরোনো হাসপাতাল ঐতিহ্য বহনের পাশাপাশি চিকিৎসাপ্রযুক্তি আধুনিক। হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের আচরণও প্রশংসনীয়।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   রোগ  চিকিৎসা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: