কিছু জুতার সামনের অংশ সুচালো হয় কেন?

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

জুতার সামনের অংশ সাধারণত গোলাকার হয়, কিন্তু ফ্যাশনজগতে এমন অনেক জুতা রয়েছে, যেগুলোর সামনের দিকটি বেশ সরু ও সুচালো। এসব

2026-11-07T15:24:12+00:00
2026-11-07T15:25:42+00:00
 
  শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬,
২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
ফিচার
কিছু জুতার সামনের অংশ সুচালো হয় কেন?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম  আপডেট: ০৭.১১.২০২৬ ৩:২৫ পিএম
সুচালো জুতা। ছবি : সংগৃহীত
জুতার সামনের অংশ সাধারণত গোলাকার হয়, কিন্তু ফ্যাশনজগতে এমন অনেক জুতা রয়েছে, যেগুলোর সামনের দিকটি বেশ সরু ও সুচালো। এসব জুতা দেখতে আকর্ষণীয় হলেও অনেক সময় পরতে অস্বস্তি হয়। এমনকি দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে পায়ের নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তারপরও কেন জনপ্রিয় এই সুচালো জুতা? 

সুচালো জুতার প্রচলন শুরু হয়েছিল মূলত ধনী পুরুষদের হাত ধরে। নারীদের ফ্যাশনের অনেক অনুষঙ্গের মতো এই জুতার ইতিহাসও পুরুষদের সঙ্গে যুক্ত। চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতকে ইউরোপের অভিজাত পুরুষদের মধ্যে সুচালো জুতা পরার প্রবণতা ছিল। এসব জুতা পরিচিত ছিল ‘পৌলেইনস’ বা ‘ক্রাকোস’ নামে। ধারণা করা হয়, পোল্যান্ডের ক্রাকো শহরের নাম থেকেই ‘ক্রাকোস’ শব্দটির উৎপত্তি। সে সময় এসব জুতার সামনের অংশ প্রায় ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতো। জুতার সুচালো অংশটি শক্ত ও সোজা রাখতে এর ভেতরে শেওলা কিংবা পশম ভরে দেওয়া হতো।

তখন পোশাকের মতো জুতাও মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও সম্পদের পরিচয় বহন করত। পৌলেইনস জুতার দাম ছিল অনেক বেশি। এ ছাড়া, এর অস্বাভাবিক লম্বা আকৃতির কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও কঠিন ছিল। ফলে, এ ধরনের জুতা পরা ছিল নিজের বিত্তবৈভব প্রদর্শনের একটি উপায়। অর্থাৎ, কেউ এমন জুতা পরলে বোঝাতে চাইতেন, তার এত সম্পদ রয়েছে যে দৈনন্দিন কোনো কাজ করার প্রয়োজনই নেই।


সুচালো জুতার জনপ্রিয়তা একপর্যায়ে এতটাই বেড়ে যায় যে, ১৪৬৩ সালে ইংল্যান্ডের রাজা চতুর্থ এডওয়ার্ড এ নিয়ে আইন প্রণয়ন করেন। ওই আইনে বলা হয়, লর্ড বা অভিজাত শ্রেণির নিচের কেউ দুই ইঞ্চির বেশি লম্বা ডগার জুতা পরতে পারবেন না।

এই আইনের পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নানা কারণ ছিল। রাজা চাইতেন, লম্বা ডগার জুতা পরে কেবল অভিজাতরাই নিজেদের আলাদা মর্যাদা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি জুতা তৈরিতে অতিরিক্ত কাপড়ের অপচয়ও কমাতে চেয়েছিলেন তিনি।

ধর্মযাজকরাও এ ধরনের জুতার বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, লম্বা ডগার জুতা পরে ঠিকভাবে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করা সম্ভব হয় না।

ফ্যাশনের এই প্রবণতার জন্য অনেককে শারীরিক ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে। সুচালো জুতা পরলে পায়ের আঙুলগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন এমন জুতা ব্যবহারের ফলে আঙুলের হাড় বাঁকা হয়ে যেতে পারে এবং পায়ের সামনের অংশে ব্যথা তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের জুতার সঙ্গে ‘বানিয়ন’ সমস্যারও সম্পর্ক রয়েছে। এই সমস্যায় পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়ার গাঁট ফুলে যায় এবং কখনো কখনো আঙুলটি অন্য আঙুলের দিকে বেঁকে যায়।

সুচালো জুতা পায়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে- এমন তথ্য জানার পরও অনেকে ফ্যাশনের অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করেন। এর পেছনে কয়েকটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে।


মানুষের মধ্যে নিজের সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে থাকার স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে। আদিম যুগে দলবদ্ধভাবে বসবাস মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই প্রবণতার প্রভাব এখনো মানুষের আচরণে দেখা যায়। তাই আশপাশের মানুষ বা নিজের পছন্দের গোষ্ঠীর সদস্যদের অনুসরণ করে অনেকে নির্দিষ্ট ফ্যাশন বেছে নেন। সুচালো হাই হিলও এর একটি উদাহরণ।

মানুষ অনেক সময় নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে অন্যদের আচরণ দেখে প্রভাবিত হয়। যখন কোনো নির্দিষ্ট জুতার নকশা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং অনেককে তা পরতে দেখা যায়, তখন সেটিকে আকর্ষণীয় বা গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে। এভাবেই ফ্যাশনের একটি ধারা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

মনোবিজ্ঞানে ‘এনক্লোথড কগনিশন’ নামে একটি ধারণা রয়েছে। এর অর্থ, মানুষ কী ধরনের পোশাক বা অনুষঙ্গ পরছে, তা তার চিন্তাভাবনা ও নিজের সম্পর্কে অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ডিজাইনাররা সুচালো জুতা তৈরি করেন এমনভাবে, যাতে পা তুলনামূলক লম্বা ও সরু দেখায়। এতে পরিধানকারীর কাছে নিজের চেহারা আরও আকর্ষণীয় ও মার্জিত মনে হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়।

তবে, সময়ের সঙ্গে জুতার নকশা ও তৈরির প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এসেছে। ক্রেতাদের মধ্যে আরামদায়ক জুতার চাহিদা বাড়ায় নির্মাতারাও নকশায় পরিবর্তন আনছেন। ফলে, আগের দিনের অস্বস্তিকর পৌলেইনসের তুলনায় আধুনিক সুচালো জুতা কিছুটা আরামদায়ক করে তৈরির চেষ্টা চলছে।

সূত্র : দ্য কনভার্সেশন-এর ‘কিউরিয়াস কিডস’ অবলম্বনে

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   জুতা  পৌলেইনস  ক্রাকোস  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: