শিশুদের শৈশবের অন্যতম প্রিয় উপহার টেডি বিয়ার। ছবি : সংগৃহীত আজ ‘হাগ আ বেয়ার ডে’। নাম শুনে অনেকের মনে হতে পারে, বনের ভালুককে জড়িয়ে ধরার জন্যই হয়ত এই দিবস। তবে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। বন্য ভালুকের কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরা বিপজ্জনক। মূলত শিশুদের প্রিয় তুলতুলে টেডি বিয়ার ও অন্যান্য নরম খেলনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিন এটি।
শিশুদের শৈশবের অন্যতম প্রিয় উপহার টেডি বিয়ার। অনেকের কাছে এটি শুধু খেলনা নয়, বরং ঘুমের সঙ্গী, ভয় কাটানোর বন্ধু কিংবা একাকিত্বের সময় নির্ভরতার প্রতীক। ছোটবেলায় যে টেডি বিয়ার সারাক্ষণ সঙ্গে থাকত, বড় হওয়ার পরও অনেকে সেটি যত্ন করে রেখে দেন। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শৈশবের অসংখ্য আনন্দময় স্মৃতি।
হাগ আ বেয়ার ডে মূলত সেই স্মৃতিগুলোকে নতুন করে মনে করার উপলক্ষ। প্রিয় টেডি বিয়ারকে জড়িয়ে ধরে শৈশবের সরল আনন্দে ফিরে যাওয়ার দিন।
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিসরেও নরম খেলনা ব্যবহারের প্রচলন ছিল। তবে, বর্তমানে পরিচিত প্লাশ টয়ের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে উনিশ শতকের তিরিশের দশকে।
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় টেডি বিয়ারের প্রচলন শুরু হয় ১৯০২ সালে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট শিকারে গিয়ে একটি ছোট ভালুককে গুলি করতে অস্বীকৃতি জানান। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কার্টুন প্রকাশিত হয়। পরে সেই ঘটনা থেকেই ‘টেডি বিয়ার’ নামের প্রচলন ঘটে। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের ডাকনাম ‘টেডি’ থেকেই খেলনাটির এই নাম রাখা হয়।
এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিশুদের কাছে টেডি বিয়ার জনপ্রিয় খেলনা হয়ে ওঠে। বর্তমানে নানা রং, আকার ও নকশার টেডি বিয়ার পাওয়া যায়। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও এটি প্রিয় উপহার হিসেবে পরিচিত।
যেভাবে পালন করবেন হাগ আ বেয়ার ডে
বাড়িতে থাকা পুরোনো টেডি বিয়ারটি দিয়েই শুরু হতে পারে দিবসের আয়োজন। সেটিকে জড়িয়ে ধরে শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করুন। নিজের কাছে টেডি বিয়ার না থাকলে নতুন একটি কিনতে পারেন। প্রিয়জনকেও উপহার দিতে পারেন নরম খেলনা।
বাজারে বিভিন্ন রং, আকার ও নকশার টেডি বিয়ার পাওয়া যায়। পছন্দ অনুযায়ী একটি কিনে পোশাক, টুপি কিংবা অন্যান্য সাজসজ্জার উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। চাইলে টেডির ভেতরে ছোট সাউন্ড বক্স যুক্ত করে পছন্দের কোনো বার্তা বা শুভেচ্ছাও সংযুক্ত করতে পারেন।
দিবসটির আনন্দ বাড়াতে খাবারেও রাখতে পারেন বিশেষ আয়োজন। চালের পাফ দিয়ে ভালুকের মুখের আদলে মিষ্টি স্ন্যাকস তৈরি করা যায়। গলানো চকোলেট ও কাজুবাদাম দিয়ে বানানো যেতে পারে ভালুকের থাবার মতো ক্যান্ডি। ফ্রেঞ্চ টোস্টের ওপর কলার টুকরো সাজিয়ে তৈরি করতে পারেন টেডি বিয়ারের মুখ। পাউরুটি, শসা ও অলিভ দিয়েও বানানো যায় ভালুকের মুখের আদলে স্যান্ডউইচ। শিশুদের সঙ্গে নিয়ে এসব খাবার তৈরি করলে আনন্দ আরও বাড়বে।
বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোট্ট পার্টির আয়োজন করতে পারেন। প্রত্যেকে সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন নিজের প্রিয় টেডি বিয়ার বা নরম খেলনা। শিশুদের খেলনাগুলোকে অতিথি বানিয়ে বসানো যেতে পারে চায়ের আসর। সঙ্গে থাকবে পছন্দের খাবার, গল্প ও শৈশবের মজার স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ।
প্রিয় টেডি বিয়ারকে ঘিরে এমন ছোট ছোট আয়োজনই ফিরিয়ে আনতে পারে শৈশবের নির্মল আনন্দ। দিনটি হতে পারে ব্যস্ত জীবনে একটু বিরতি নিয়ে নিজের স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার উপলক্ষ।
সময়ের আলো/মহু