মন্দিরে গেলে সাধারণত প্রসাদ হিসেবে ফল, মিষ্টি কিংবা খিচুড়ি-পোলাওয়ের মতো খাবার পাওয়া যায়। কোনো কোনো মন্দিরে আমিষ পদও প্রসাদ হিসেবে দেওয়ার রীতি রয়েছে। কিন্তু ভারতের বিহারের একটি মন্দিরে এসবের কিছুই নেই। যদিও ধূমপান স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর, তবু সেখানে প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় বিড়ি! শুধু তা-ই নয়, ভক্তরাও দেবতার উদ্দেশে বিড়িই নিবেদন করেন। অন্য কোনো খাবার বা সামগ্রী নিবেদনের প্রচলন নেই এই মন্দিরে।
বিহারের কৈমূর জেলার ভগবানপুর ব্লকে অবস্থিত মন্দিরটি ‘মুসহরওয়া বাবার মন্দির’ নামে পরিচিত। জেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ভভুয়া-অধোরা প্রধান সড়কের পাশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় মন্দিরটির অবস্থান।
মুসহরওয়া বাবার মন্দির। ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয়দের বিশ্বাস, মুসহরওয়া বাবা অত্যন্ত জাগ্রত দেবতা। যুগের পর যুগ ধরে তার মন্দিরে বিড়ি নিবেদনের রীতি চলে আসছে। এ প্রথার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের লোকবিশ্বাস। যদিও অনেকে একে কুসংস্কার বলে মনে করেন।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মুসহরওয়া বাবা বিড়িতেই সন্তুষ্ট হন। তাকে তুষ্ট করতে বাহারি মিষ্টি কিংবা বিশেষ কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না। এমনকি ধূপ-ধুনো ছাড়াও পূজা দেওয়া যায়। তবে, সঙ্গে বিড়ি থাকা চাই।
স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ি পথে যাত্রা শুরুর আগে মুসহরওয়া বাবার উদ্দেশে বিড়ি নিবেদন করলে তিনি যাত্রীকে সব ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এতে যাত্রাপথ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়। এই বিশ্বাস থেকেই বহু তীর্থযাত্রী, সাধু-সন্ন্যাসী মন্দিরে এসে বিড়ি অর্পণ করেন। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
কারও কাছে বিড়ি না থাকলেও রয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। মন্দিরের প্রণামির বাক্সে বিড়ি কেনার জন্য টাকা দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সরাসরি বিড়ি নিবেদন না করে এর জন্য অর্থ দান করলেও মুসহরওয়া বাবা সন্তুষ্ট হন। অনেকে টাকা দেওয়ার পর মন্দির থেকে বিড়ি প্রসাদ হিসেবে নিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে যাত্রা শুরু করেন।
স্থানীয়দের দাবি, দেবতার উদ্দেশে বিড়ি নিবেদন করে অনেকেরই মনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
শুধু যাত্রাপথের বিপদ থেকে রক্ষা করাই নয়, মুসহরওয়া বাবা ভক্তদের মনস্কামনাও পূরণ করেন বলে বিশ্বাস করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দেবতার উদ্দেশে বিড়ি নিবেদন করে অনেকেরই মনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।
এই প্রথা কেবল কৈমূর জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ় ও মধ্যপ্রদেশ থেকেও অনেক যাত্রী মুসহরওয়া বাবার মন্দিরে আসেন। কেউ কেউ শুধু বিড়ি নিবেদন করে মনস্কামনা পূরণের আশায় দূরদূরান্ত থেকে সেখানে যান।