প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ১১:৫১ এএম
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। ছবি : সংগৃহীত বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন দেশের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত এই দ্বীপের পরিচিতি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের গল্প।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিনের গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে সেন্ট মার্টিন ছিল টেকনাফের মূল ভূখণ্ডের অংশ। সময়ের সঙ্গে ওই এলাকা সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যায়। পরে প্রায় ৪৫০ বছর আগে দ্বীপটির দক্ষিণ পাড়া জেগে ওঠে। এর প্রায় ১০০ বছর পর উত্তর পাড়া এবং পরবর্তী এক শতকের মধ্যে দ্বীপের বাকি অংশও জেগে ওঠে।
গবেষক মোস্তফা কামাল পাশার তথ্যমতে, প্রায় ২৫০ বছর আগে আরব বণিকদের নজরে আসে দ্বীপটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক যাতায়াতের সময় তারা এখানে বিশ্রাম নিতেন। তাদের দেওয়া ‘জাজিরা’ নাম থেকেই পরবর্তী সময়ে ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামের প্রচলন ঘটে বলে জানা যায়। দ্বীপে প্রচুর নারকেল গাছ থাকায় এ নাম পরিচিতি পায়।
অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিনের দাবি, প্রায় ৩৩ হাজার বছর আগেও এ অঞ্চলে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। বিভিন্ন কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের অংশ হওয়ার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ব্রিটিশ আমলের ভূমি জরিপ। ১৯০০ সালে জরিপের সময় দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন বার্মাও ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকলেও দ্বীপটি বার্মার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে জানান গবেষক মোস্তফা কামাল পাশা।
দ্বীপটির নামকরণ নিয়েও রয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নাম অনুসারে এর নাম সেন্ট মার্টিন হয়েছে। তবে অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিনের মতে, ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্তির সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নাম রাখেন।
পর্যটন করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৯০ সালে কয়েকজন মৎস্যজীবী দ্বীপটিতে বসতি গড়েন। তাদের মধ্যে বাঙালিদের পাশাপাশি রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনও ছিলেন। সময়ের সঙ্গে দ্বীপটি বাঙালি-অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হয়।
সেন্ট মার্টিনের মালিকানা নিয়ে ২০১৮ সালে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। ওই বছর মিয়ানমার সরকারের একটি জনসংখ্যাবিষয়ক মানচিত্রে দ্বীপটিকে দেশটির অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বাংলাদেশ। এ ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র : বিবিসি
সময়ের আলো/মহু