বিশ্বের বিপজ্জনক ১০ বিমানবন্দর

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বিশ্বের সব বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামার পরিস্থিতি এক রকম নয়। কোথাও পাহাড়ের খাঁজে, কোথাও সমুদ্রের একেবারে পাশে, আবার কোথাও বরফের ওপর

2026-11-03T19:03:59+00:00
2026-11-03T19:24:46+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
ফিচার
বিশ্বের বিপজ্জনক ১০ বিমানবন্দর
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম  আপডেট: ০৩.১১.২০২৬ ৭:২৪ পিএম
বিশ্বের বিপজ্জনক ১০ বিমানবন্দর। গ্রাফিক : সময়ের আলো
বিশ্বের সব বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামার পরিস্থিতি এক রকম নয়। কোথাও পাহাড়ের খাঁজে, কোথাও সমুদ্রের একেবারে পাশে, আবার কোথাও বরফের ওপর তৈরি রানওয়েতে অবতরণ করতে হয় বিমানকে। রানওয়ের স্বল্প দৈর্ঘ্য, ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চতা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এসব বিমানবন্দরে বিমান পরিচালনা পাইলটদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। এমনই ১০টি বিপজ্জনক বিমানবন্দর সম্পর্কে জানা যাক।


পারো বিমানবন্দর, ভুটান

ভুটানের পারো বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দেড় মাইল উচ্চতায় অবস্থিত বিমানবন্দরটির চারপাশে রয়েছে ১৮ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতার পাহাড়চূড়া। অথচ এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য মাত্র ৬ হাজার ৫০০ ফুট। পাহাড়ঘেরা এমন দুর্গম পরিবেশে ছোট রানওয়েতে বিমান অবতরণ করা পাইলটদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।


প্রিন্সেস জুলিয়ানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ক্যারিবীয় অঞ্চল

ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে অবতরণের সময় পাইলটদের বেশ কিছু জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। রানওয়েতে পৌঁছানোর আগে বিমানকে সমুদ্রসৈকত, সুরক্ষাবেষ্টনী ও সড়কের ওপর দিয়ে নিচু হয়ে উড়ে আসতে হয়। বিমানবন্দরটির রানওয়ে প্রায় ৭ হাজার ১৫০ ফুট দীর্ঘ। ছোট ও মাঝারি আকারের বিমানের জন্য তৈরি হলেও এখানে বড় আকারের এয়ারবাস এ৩৪০ ও বোয়িং ৭৪৭ বিমানও অবতরণ করে।


আইস রানওয়ে, অ্যান্টার্কটিকা

অ্যান্টার্কটিকার এই বিমান অবতরণস্থলে প্রচলিত অর্থে কোনো পাকা রানওয়ে নেই। বরফ ও তুষার পরিষ্কার করে তৈরি করা হয় বিমান ওঠানামার জায়গা। এখানে অবতরণের আগে বিমানের ওজন বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়। কারণ, অতিরিক্ত ওজনের বিমান বরফের স্তর ভেঙে ফেলতে পারে কিংবা তুষারে আটকে যেতে পারে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বরফের ওপর অবতরণের ঝুঁকি এই বিমানবন্দরকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।


কাই টাক বিমানবন্দর, হংকং

একসময় বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল হংকংয়ের কাই টাক বিমানবন্দর। চারপাশের পাহাড়, শক্তিশালী বাতাস ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কারণে এখানে বিমান অবতরণ ও উড্ডয়ন ছিল অত্যন্ত কঠিন। অবতরণের আগে পাইলটদের বিশেষ কৌশলে বিমান ঘুরিয়ে রানওয়ের দিকে এগিয়ে নিতে হতো। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ১৯৯৮ সালে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।


কোর্চেভেল বিমানবন্দর, ফ্রান্স

ফ্রান্সের আল্পস পর্বতমালায় অবস্থিত কোর্চেভেল বিমানবন্দরটি ছোট ও ঢালু রানওয়ের জন্য পরিচিত। এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য মাত্র ৫২৫ মিটার এবং ঢাল প্রায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। পাহাড়ি পরিবেশের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমান চালিয়ে এখানে অবতরণ করতে হয়। প্রচলিত আলোকসজ্জা ও অবতরণ-সহায়ক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে কুয়াশা কিংবা নিচু মেঘের মধ্যে অবতরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।


তেনজিং-হিলারি বিমানবন্দর, নেপাল

নেপালের লুকলা বিমানবন্দর বর্তমানে তেনজিং-হিলারি বিমানবন্দর নামে পরিচিত। এভারেস্ট অভিযানে যাওয়া পর্বতারোহীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বিমানবন্দরটির রানওয়ে বেশ ছোট। একদিকে পাহাড়ি ঢাল, অন্যদিকে খাড়া ভূমি- সব মিলিয়ে এখানে বিমান অবতরণ ও উড্ডয়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং। প্রতিকূল আবহাওয়া, সীমিত দৃশ্যমানতা ও পাহাড়ি বাতাসের কারণে পাইলটদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।


ওয়েলিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের দুপ্রান্তেই রয়েছে সমুদ্র। ফলে, অবতরণ কিংবা উড্ডয়নের সময় সামান্য ভুলও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিমানবন্দরটির রানওয়ে প্রায় ৬ হাজার ৩৫১ ফুট দীর্ঘ। প্রবল বাতাস ও আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এখানে বিমান পরিচালনাকে আরও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে ঝোড়ো বাতাসের কারণে অবতরণের সময় পাইলটদের বাড়তি দক্ষতার প্রয়োজন হয়।


লা গার্দিয়া বিমানবন্দর, যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত লা গার্দিয়া বিমানবন্দরটি ব্যস্ত আকাশপথ ও আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কারণে পাইলটদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। এর কাছাকাছি রয়েছে জন এফ কেনেডি ও নিউয়ার্ক বিমানবন্দর। ফলে, আকাশপথে অন্য বিমানের চলাচল ও ফ্লাইটের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিমান পরিচালনা করতে হয়। ম্যানহাটনের কাছাকাছি অবস্থানের কারণেও বিমান ওঠানামার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।


টনকন্টিন বিমানবন্দর, হন্ডুরাস

হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুসিগালপার পাহাড়ঘেরা উপত্যকায় অবস্থিত টনকন্টিন বিমানবন্দর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ২৯৪ ফুট। প্রায় ৭ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েতে অবতরণের আগে পাইলটদের পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে উড়ে এসে তীক্ষ্ণ বাঁক নিতে হয়। এরপর দ্রুত উচ্চতা কমিয়ে রানওয়ের সঙ্গে বিমানের অবস্থান সমন্বয় করতে হয়। পাহাড়ি বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়া অবতরণকে আরও জটিল করে তোলে। বর্তমানে এখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইটের কার্যক্রম সীমিত।


সাবা বিমানবন্দর, ক্যারিবীয় অঞ্চল

ক্যারিবীয় দ্বীপ সাবায় অবস্থিত এই বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বাণিজ্যিক রানওয়েগুলোর একটি। এর রানওয়ের দৈর্ঘ্য মাত্র ৪০০ মিটার বা প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট। চারপাশে পাহাড় ও সমুদ্র থাকায় এখানে বিমান অবতরণ অত্যন্ত কঠিন। ছোট রানওয়ের কারণে কেবল বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ পাইলটরাই এখানে বিমান পরিচালনার অনুমতি পান। আকারে ছোট হলেও এর অবতরণপথের দৃশ্য যাত্রীদের জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   বিমানবন্দর  বিপজ্জনক  বিমান  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: