
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিষ্টার মেরী দেবারতীর বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা দূর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার পর দূর্নীতি ও অনিয়মের তদন্ত করতে প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিনিধিদল মাঠে নেমেছে।
অভিযোগের বিবরণ ও ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকদের কাছ থেকে জানা গেছে উপজেলার নারিকেলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিষ্টার মেরী দেবারতী বিদ্যালয়ে যোগদানের পর ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নিয়ম বর্হির্ভূতভাবে পরীক্ষার ফি,ভর্তি ফি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়, নির্ধারিত লাইব্রেরী থেকে গাইড বই ক্রয়ে বাধ্য করা, বিদ্যালয়ের পোষাকে অতিরিক্ত টাকা আদায় ও কচিং বানিজ্য সহ বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছেন। বিদ্যালয়টি এমপিও ভূক্ত হওয়া সত্বে ও প্রধান শিক্ষক খ্রীষ্ট ধর্মীয় মিশনারিজ স্কুল বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষকের এসব নিয়ম বহিঃভূত কাজের প্রতিবাদ করলে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার ভয়-ভীতি দেখিয়ে থাকেন। যার ফলে এলাকার কেহই প্রধান শিক্ষকের এসব কাজের প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।
এ ব্যাপারে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকরা দূর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক এর কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর তিনি জেলা প্রশাষক গোপালগঞ্জকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলেন। জেলা প্রশাষক কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তারা তদন্তে নেমেছেন।
ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক কেয়া খন্দকার, যগদীশ রায়, খোকন মীর সহ অনেকেই জানান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মফস্বালে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফি অনধিক ৫ শত টাকা নেওয়ার বিধান থাকলেও প্রধান শিক্ষক প্রতি ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ১ হাজার ৪ শত টাকা করে নিচ্ছেন। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের পোষাক বানাতে প্রধান শিক্ষককে ১ হাজার ২ শত টাকা দিতে হয় এবং বিদ্যুৎ ও পানির বিল সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে প্রধান শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অধিক টাকা আদায় করে থাকেন।
নারিকেলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক সিষ্টার মেরী দেবারতী এর সাথে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
রাধাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অমৃত লাল হালদার জানান- প্রধান শিক্ষক খ্রীষ্ট ধর্মীয় মিশনের নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন এবং নিয়ম বহিঃভূত ভাবে ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, কোচিং বানিজ্য সহ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অধিক টাকা আদায় করে নিচ্ছেন।
অভিযোগের দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা ও কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার পলাশ কুমার দাস জানান- দূর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক এর কাছে অভিযোগ হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে আমি তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে তদন্ত শুরু করেছি। এই মুহুর্তে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না। তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিলে কর্র্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।