
সাহরি শব্দটি আরবি সাহর থেকে। সাহর শব্দের অর্থ হলো রাতের শেষাংশ বা ভোর রাত। আর সাহরি শব্দের অর্থ শেষ রাতের খাবার। আগামীকাল রোজা রাখার নিয়তে শেষ রাতে বরকত লাভের জন্য কিছু খাওয়াকে সাহরি বলা হয়। সাহরি খেয়ে আমরা দিনে রোজা রাখি। রোজা রাখার জন্য সাহরির সময়টায় এত রহমত তার বান্দাদের ওপর আল্লাহ বর্ষিত করেন যার হিসাব নেই। তাই রাতে তারাবি নামাজ আদায় করে সারা রাত অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি কখন সাহরি খাওয়ার সময় হবে। পরদিন মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের জন্য রোজা রাখব। এ নিয়তের সঙ্গে সঙ্গেই আমলনামায় নেকি লেখা হয়ে যায়। কারণ সাহরি খাওয়া রাসুল (সা.)-এর সুন্নত এবং সাহরি খাবারটা খুব বরকতময়। বরকতের জন্য সাহরি খেতে হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, সাহরির মধ্যে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি : ১৯২৩)
সাধারণত সাহরি না খেলে সারাদিন ক্ষুধায় কষ্ট পেতে হয়। সাহরি খেলে সুন্নত আদায় হবে এবং ক্ষুধার কষ্ট থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যাবে। ইমাম তাবারানী (রহ.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘সাহরি ভক্ষণকারীর খাবারের হিসাব হবে না।’ রাসুল (সা.)-এর হাদিস শরিফে সাহরি খাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুল (সা.) সাধারণত দেরি করে সাহরি খাবার খেতেন, তাই রাতের শেষ প্রহরে সাহরি খাওয়া সুন্নাত। রাসুল (স.) বলেন, ‘আমার উম্মত কল্যাণের সঙ্গে থাকবে যতদিন তারা তাড়াতাড়ি ইফতারি করবে এবং সাহরি দেরি করে করবে।’ (আহমদ) তবে এত বেশি দেরি করা ঠিক নয় যাতে সুবহে সাদিক হয়ে যায় বরং সুবহে সাদিকের কিছুক্ষণ পূর্বে সাহরি খাওয়া শেষ করা উচিত। হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) বলেন, আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাহরি খেতাম। সাহরি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি ফজরের নামাজে দাঁড়াতেন। আমি (আনাস) বললাম, আজান ও সাহরির মাঝে কতো সময় থাকতেন, তিনি বললেন, ৫০টি আয়াত পড়ার সমপরিমাণ। আমাদের সবার মনে রাখতে হবে সাহরির শেষ সময় নির্ণয় হবে সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার দ্বারা। ফজরের আজান দ্বারা নয়। সুতরাং যদি কেউ সুবহে সাদিকের পূর্বে আজান দেয় তবে সে আজানের পরেও সাহরি খাওয়া জায়েজ হবে। পক্ষান্তরে আজান যদি সুবহে সাদেকের পরে দেয় তবে আজান চলাকালীন তো দূরের কথা আজানের শুরুতে বা বা তার পূর্বক্ষণেও খাওয়া জায়েজ হবে না।
আর এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে, আমাদের দেশে ফজরের আজান সুবহে সাদিকের পরেই দেওয়া হয়ে থাকে। তাই আজান চলাকালীন সময়ে কিছু খেলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। অনেককেই দেখা যায়, ইচ্ছাকৃতভাবে সাহরি না খেয়ে রোজা রাখে। ইচ্ছাকৃতভাবে না খেয়ে রোজা রাখা ঠিক নয়। যে ব্যক্তি সাহরি খায় তার ওপর রহমত নাজিল করা হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সাহরি ভক্ষণকারীদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার রহমত নাজিল করেন এবং ফেরেশতারা তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করেন। (ইবনে হিব্বান : ২৪৬) সাহরি খাওয়ার কারণে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়, তাই হজরত ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সাহরি খাও।’ হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন তোমরা সাহরি খেয়ে দিনের রোজার ওপর শক্তি অর্জন কর।’ (ইবনে মাজাহ)
আমাদের সবার উচিত রাসুল (সা.)-এর সুন্নাতকে জিন্দা করার আশায় সাহরি খাওয়া। আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া।’ (মুসলিম : ১০৯৬)। এই খাবার যেহেতু বরকতময় তাই অজু করে পাক পবিত্র অবস্থায় বসে খাওয়া উত্তম। আল্লাহ আমাদের সবার সাহরি কবুল করুন।
লেখক : অধ্যক্ষ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা