হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর হিন্দু দেবতা কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের স্মরণে এই উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে। রথযাত্রার দিন দেশের সকল জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও সুদর্শন চক্র মূর্তি মন্দির বাহিরে সর্বসমক্ষে বাহির করা হয়। তারপর তিনটি সুসজ্জিত রথে (কোনো কোনো স্থলে একটি সুসজ্জিত সুবৃহৎ রথে) বসিয়ে দেবতাদের পূজা সম্পন্নপূর্বক রথ টানা হয়।
এ উপলক্ষে ঢাকার আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।
ইসকনের স্বামীবাগ আশ্রমে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর আড়াইটায় স্বামীবাগ আশ্রম থেকে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা বের করা হবে। তিনটি সুবিশাল রথসহ শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। রথযাত্রা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।
জানা গেছে, ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাত্রা বেলা ৩টায় শুরু হবে। মঙ্গলপ্রদীপ জ্বেলে এ রথযাত্রার উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া রাজধানীর তাঁতীবাজারের জগন্নাথ জিউঠাকুর মন্দিরের রথযাত্রা তাঁতীবাজারের কোতোয়ালি রোড থেকে শুরু হয়ে ইসলামপুর, সদরঘাট মোড় ও ইংলিশ রোড হয়ে তাঁতীবাজার দুর্গামণ্ডপ প্রাঙ্গণে শেষ হবে। জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দিরেও বিস্তারিত অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। বিকালে এ মন্দির থেকে রথযাত্রা শুরু হবে। শাঁখারীবাজার একনাম কমিটির রথযাত্রাটি শুরু হয়ে মাধব গৌড়ের মঠে শেষ হবে।
রথযাত্রা উপলক্ষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, বাংলাদেশ ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মানুষকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
প্রতিবছর চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা শুরু হয়। এর ৯ দিনের মাথায় উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।